গত সোমবার বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ির পাশাপাশি সাঁইথিয়ায় তাঁর পিসির বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। বিধায়ক তখন নিজের মোবাইল পুকুরে ফেলে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। পরে মোবাইল উদ্ধার ও বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়।

সিজিওতে ধৃত বিধায়কের পিসি।
শেষ আপডেট: 28 August 2025 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি নবম-দশম নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Corruption Case) বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক, বর্তমানে হেফাজতে থাকা জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jibankrishna Saha) পিসি মায়া সাহাকে (সাঁইথিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলর ) তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)।
ইডিরডাকে সাড়া দিয়ে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ সিজিওতে এসে পৌঁছন মায়াদেবী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন, "জীবনকৃষ্ণের দুর্নীতির টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার কাছে যে টাকা বা সম্পত্তি রয়েছে, তা আমার স্বামীর।"
এদিন ভোরে সাঁইথিয়ার বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি, হাজিরা দিয়ে বয়ান রেকর্ড হবে। ইডি সূত্রের খবর, প্রয়োজনে পিসি-ভাইপোকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
গত সোমবার বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ির পাশাপাশি সাঁইথিয়ায় তাঁর পিসির বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। বিধায়ক তখন নিজের মোবাইল পুকুরে ফেলে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। পরে মোবাইল উদ্ধার ও বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, মায়া সাহার বাড়িতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলে।
এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জীবনকৃষ্ণর বাবা বিশ্বনাথবাবুর মন্তব্য। তাঁর সাফ কথা, এমএলএ হওয়ার পর থেকেই ছেলের বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে। এজন্য নিজের বোন মায়া সাহাকেও দোষারোপ করেছেন তিনি। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে মায়া সাহা বলেন, “আমার দুর্নীতির সঙ্গে কোনো যোগ নেই। পারিবারিক হিংসা থেকে মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে।”
ইডি সূত্রে জানা যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মালদহ ও বীরভূমে চাকরি বিক্রির একটি বিশাল “সাম্রাজ্য” চালাতেন। ১৫ জন এজেন্ট এবং তাদের মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন সাব-এজেন্টকে কাজে লাগিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে বলে ধারণা ইডি’র। বিধায়ক হওয়ার পর সম্পত্তির পরিধিও বেড়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত একের পর এক বেনামি সম্পত্তি কেনা হয়েছে ঘনিষ্ঠদের নামে।
এই ঘটনার পর ইডি’র তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের দিকগুলো আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।