.jpeg)
সাংবাদিক বৈঠকে 'যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ'।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 20:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা থেকে বর্ধমান, ডিআই অফিস অভিযানে গিয়ে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহামিছিলের ডাক দিলেন নিগৃহীত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। 'যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ' এর তরফে এদিন সন্ধেয় এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হয়।
মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এবং যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করার দাবিতে আগামীকাল বেলা ১২টায় শিয়ালদহ থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মহামিছিল হবে। মিছিলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের পাশাপাশি হাঁটবেন শিক্ষকরাও।
একই দাবিতে আগামী শুক্রবার দুপুরে এসএসসি ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার বেলা ১২টায় করুণাময়ী থেকে শুরু হবে ওই মিছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নিজেদের এই মঞ্চ এবং কর্মসূচিকে অরাজনৈতিক দাবি করে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আমরা চাই না আমাদের মিছিলে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকুন! বরং আমরা চাই সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনরা আমাদের এই মিছিলে থাকুক।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর নেতাজি ইনডোরে চাকরিহারাদের সভায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাকরিহারাদের একটা বড় অংশ সেই আশ্বাসে ভরসা করতে পারেননি। ফলে বাড়তে থাকে বিক্ষোভ। বুধবার সকাল থেকে জেলায় জেলায় বিক্ষোভে নামে তাঁরা। ঘেরাও করে ডিআই অফিস। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাঁরা।
এসএসসির ২০১৬ সালের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ওই মামলায় পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। যার জেরে চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করছেন চাকরিহারারা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, শাসকদলের একাংশ নেতা চাকরি বিক্রি করল। সে কারণেই সরকার যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই করল না, যার খেসারত দিতে হল তাঁদের। পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, "পুলিশ দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে।" এর প্রতিবাদে এবার বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করার হুঁশিয়ারি দিল শিক্ষকদের যোগ্য মঞ্চ। একই দাবিতে কলকাতার পাশাপাশি বৃহস্পতি ও শুক্রবার জেলায় জেলায়ও বিক্ষোভ দেখাবেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।
চাকরিহারাদের বক্তব্য, "আমরা এই আন্দোলন অরাজনৈতিকভাবে এগোব। শাসক-বিরোধী প্রয়োজনে সর্বদল ডেকে আমাদের সমস্যার সমাধান করুন। অযোগ্যদের সমূলে উৎখাত করা হোক। কারণ, মনে রাখবেন, আপনাদেরও ভোটের বৈতরণী পার হতে হবে। এখন আমাদের না দেখলে ভোটের সময় আমরাও ছেড়ে কথা বলব না।"