ফলাফল ঘোষণার পর প্রথমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তারপর নবম-দশম শ্রেণির নথি যাচাই ও ইন্টারভিউ নেওয়া হবে।

আগামিকাল এসএসসির ফলপ্রকাশ
শেষ আপডেট: 6 November 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামিকাল, শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলেছে এসএসসি-র (SSC Result WB) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের (Teachers recruitment) ফলাফল। সন্ধ্যা আটটার পর থেকেই দেখা যাবে রেজাল্ট। সূত্রের খবর, ফল প্রকাশের আগে বারবার তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে কমিশনের (School Service Commission) তরফে। কারণ, এই রেজাল্টই অনেক চাকরিহারার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, আট জন চাকরিপ্রার্থীর নথি বর্তমানে যাচাই করছে কমিশন। এই প্রার্থীরা দাবি করেছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাই রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের মতোই তাঁদেরও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল— রাজ্যের স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর অতিরিক্ত পাবেন। তবে এই আট প্রার্থীর আবেদন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এরপর তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্দেশ দেয়, তাঁদের নথি যাচাই করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে এসএসসিকে।
বৃহস্পতিবার সকালে সল্টলেকের আচার্য সদনে ওই প্রার্থীদের ডেকে পাঠানো হয় নথি যাচাইয়ের জন্য। কমিশন সূত্রে খবর, নথি পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ফলাফল ঘোষণার পর প্রথমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তারপর নবম-দশম শ্রেণির নথি যাচাই ও ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। দুই স্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদ ৩৫,৭২৬টি। এর মধ্যে একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শূন্যপদ রয়েছে ১২,৫১৪টি।
এই পর্যায়ে আবেদন করেছিলেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ৩,১২০ জন বিশেষভাবে সক্ষম। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৯৩ শতাংশ প্রার্থী। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ১০০টি শূন্যপদের জন্য ডাক পাবেন ১৬০ জন চাকরিপ্রার্থী। অর্থাৎ, মোট ৩৫,৭২৬টি শূন্যপদের জন্য ইন্টারভিউর ডাক পেতে পারেন প্রায় ৬০ হাজার প্রার্থী।
বস্তুত, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে বিস্তর দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাতে স্বাভাবিক ভাবে মুখ পুড়েছিল কমিশন এবং রাজ্য সরকারের। সুপ্রিম কোর্টেও ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাতে চাকরি খুইয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী। শীর্ষ আদালতেরই নির্দেশে সেই পরীক্ষাই আবার নতুন করে হয়।
এই পরীক্ষা ঘিরেও কম বিতর্ক হয়নি। চাকরিহারানোদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট যাঁদের দাগি বা টেন্টেড বলে চিহ্নিত করেছিল, তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এবং শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের আর্জিও জানানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য দু’টি আর্জিই খারিজ করে দেয়।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, এক জন দাগিও নতুন নিয়োগে যোগ দিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। ১,৮০৬ জন ‘দাগি’ অযোগ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়।