
শেষ আপডেট: 11 April 2023 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব ঘোষণা মতো রাজস্থানের (Rajasthan) বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট (Sachin Pilot ) মঙ্গলবার থেকে জয়পুরে অনশন আন্দোলনে (hunger strike) বসেছেন। কংগ্রেস হাইকমান্ডের নিষেধ উপেক্ষা করেই রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে একদিনের অনশন আন্দোলনে অনড় থাকলেন এই নেতা।
এদিকে, মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট তাঁর সরকারের ভিশন ডক্যুমেন্ট প্রকাশ করেছেন জয়পুরে। তাতে গেহলট সরকার দাবি করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্থান দেশের সেরা রাজ্য হয়ে উঠবে। তাতে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে। গেহলট বলেন, এখনই রাজস্থানে সামাজিক সুরক্ষার সে প্রকল্পগুলি চালু আছে তা দেশের কোথাও নেই।
তিনি বলেন, কোন রাজ্যে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা আছে? ১৫ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বিমাই বা আছে কোথায়? গেহলট তাঁর সরকারের সদ্য চালু করা চিকিৎসার অধিকার আইনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। ওই আইন বলে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানেও মিলবে বিনা পয়সায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা। এমন আইন চালু হয়েছে একমাত্র রাজস্থানেই।

এদিকে, শচীন পাইলটকে নিয়ে রাজস্থানে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তাঁর অনশন আন্দোলনের একমাত্র ইস্যুটি গেহলট সরকারের বিরুদ্ধেই। শচীনের অভিযোগ, আগের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের বিরুদ্ধে থাকা ২৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের কোনও তদন্ত না করে আড়াল করেছে গেহলট। অর্থাৎ প্রকারান্তরে বিজেপির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের বোঝাপড়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে অনশন আন্দোলন স্থগিত রেখে গেহলটের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড।
শীর্ষ নেতৃত্বের কথা খেলাপ করার পর গেহলটকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কি তিনি নতুন দল গড়ে আগামী বিধানসভা ভোটে দল ও গেহলটকে জব্দ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছেন। রাজস্থান কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, বিজেপি সরকারের দুর্নীতির কথা বললেও, গেহলটের পিছনে আসলে গেরুয়া শিবিরের উস্কানি কাজ করছে। সেই কথা কানে তোলা দূরে থাক, পাইলটের অনশন মঞ্চটিও জল্পনার কারণ হয়েছে। মঞ্চে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতি থাকলেও দলের কোনও নেতা, এমনকী সনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়ঙ্কাদের কারও ছবি নেই।
শচীনের রাজনৈতিক ওজন এবং ভোটের ময়দানে গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এই জল্পনা জোরদার হয়েছে। বিজেপি এখন রাজ্যে রাজ্যে ওবিসি ভোটকে নিজেদের ঝুলিতে টানা অথবা বিরোধী শিবিরে থাকা ওই ভোটে ভাঙন ধরাতে মরিয়া। শচীন ওবিসি-দের মধ্যে প্রভাবশালী গোষ্ঠী গুজ্জর সম্প্রদায়ের নেতা। বস্তুত ওই সম্প্রদায়ের স্বার্থে তাঁর আন্দোলনের সুবাদে ২০১৮-র ভোটে রাজস্থানে কংগ্রেসের ফেরা সহজ হয়েছিল। পূর্ব রাজস্থানের গুজ্জর সম্প্রদায় বহুল ২৮টি বিধানসভা আসনের ২০টি সেবার কংগ্রেস পেয়েছিল। প্রচারের সামনের সারিতে ছিলেন শচীন।
কংগ্রেসের একাংশের ধারনা, শচীন নতুন দল গড়লে গুজ্জর-সহ কংগ্রেসের ওবিসি ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙন অবশম্ভাবী। আর তাকে ক্ষতি কংগ্রেসের, লাভ বিজেপির।

প্রাক্তন মুখ্যন্ত্রী শচীনের আসল রাজনৈতিক লক্ষ্য কী? তাঁর বহু দিনের দাবি, পাইলটকে সরিয়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। নভেম্বের বিধানসভা ভোটে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। এই নেতার বক্তব্য, আগের ভোটে তাঁর জন্যই দল ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। ভোটের আগে কথা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। বলা হয়, আড়াই বছর পর গেহলট তাঁকে চেয়ার ছেড়ে দেবেন।
কিন্তু গেহলট এমনকী কংগ্রেস হাইকমান্ডও তাঁর দাবি মানেনি। ফের ক্ষমতায় এলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, এমন প্রতিশ্রুতিও আদায় করতে পারেননি রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ এই নেতা। এই পরিস্থিতিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শচীন নিজের সম্প্রদায় এবং অনুগামীদের সামনে মুখ রক্ষায় কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়ার মতো চরম পদক্ষেপ করতে পারেন, মনে করছে রাজস্থানের রাজনৈতিক মহলও।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ খারিজ করল ডিভিশন বেঞ্চ, প্রাথমিকের নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা