বিগত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই। মোবাইল ফোন সুইচ অফ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অচল। দু’দিন ধরে এক ‘অজ্ঞাতজনের’ হুমকি ফোন পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন বাবাইয়ের পরিবারের।
.jpg.webp)
মুম্বইয়ে বাংলার শ্রমিককে 'হেনস্থা'!
শেষ আপডেট: 3 August 2025 00:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ইস্যু ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর আক্রমণ ও হেনস্থার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ‘ভাষা আন্দোলন’ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই আবহেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মহারাষ্ট্রে নিখোঁজ এক বাঙালি শ্রমিককে উদ্ধারে বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
মুম্বইয়ে কাজে গিয়ে নির্যাতিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বিষ্ণুপুর ব্লকের জুলপিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবাই সর্দার (২৬)! পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় দু’বছর আগে রোজগারের জন্য মুম্বইয়ে যান তিনি। বিগত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই। মোবাইল ফোন সুইচ অফ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অচল। দু’দিন ধরে এক ‘অজ্ঞাতজনের’ হুমকি ফোন পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন বাবাইয়ের পরিবারের।
বাবাইয়ের ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড, দু’টি পরিচয়পত্রই স্থানীয় ঠিকানায় নথিবদ্ধ। আর মূল কপিগুলিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তবু তাঁরা আতঙ্কিত, কারণ এর আগেও বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের মারধর, লুটপাট, এমনকি কাজের মজুরি না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে।
বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাবাসী প্রথমে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং পরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। দ্রুত পদক্ষেপ নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শনিবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দর থেকে মহারাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়ে যায় চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। ওই দলে রয়েছেন, অরূপকুমার দাস, শচী নস্কর, রাজীব গাজি এবং পলাশ কর্মকার, এঁরা সকলেই ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার নেতা। প্রয়োজনে রাজ্যের তরফে আইনগত সহায়তা ও আর্থিক সাহায্য জোগানো হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
গত কয়েক মাসে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের খবর এসেছে। কখনও মারধর, কখনও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া, আবার কোথাও কাজের পারিশ্রমিক না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের নিশানায় পড়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যের সরকার। পাল্টা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দুর্গাপুরের সভায় কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, 'অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রাজ্য পরিবহণ ও শ্রম দফতর জানিয়েছে, অন্য রাজ্যে সমস্যায় পড়া বাংলার শ্রমিকদের জন্য ‘হেল্পলাইন’ চালু রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশ, শ্রম দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারের পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।