শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দফতরে গিয়ে অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা। তবে এই তালিকায় নেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। তাঁদের আমন্ত্রণ জানাবেন না বলেও জানান নির্যাতিতার পরিবার।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 3 August 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করকাণ্ডের এক বছর হতে চলেছে আগামী ৯ অগস্ট (One Year of RG Kar Case)। প্রথমে কলকাতা পুলিশ, পরে সিবিআই (CBI) তদন্ত করেও বিচার মেলেনি, এই দাবিতে আগামী শনিবার নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhijan) ডাক দিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। তার আগে শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দফতরে গিয়ে অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা। তবে এই তালিকায় নেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। তাঁদের আমন্ত্রণ জানাবেন না বলেও জানান নির্যাতিতার পরিবার।
এদিন নির্যাতিতার বাবা-মা সল্টলেকে বিজেপির দফতরে যান। বিজেপি নেতাদের 'অরাজনৈতিক' নবান্ন অভিযানে সামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন বলে খবর। পাশাপাশি এসইউসিআই-সহ বাকি রাজনৈতিক দলগুলিকেও আহ্বান জানিয়েছেন। বাদ গেছে কেবল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, 'সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সকলেই আসবেন বলে জানিয়েছেন।'
গত মাসেই নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। সেইসময়েই শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেছিলেন, 'ন্যায় বিচার পাইনি। প্রতিবাদ জানাতে এবং বিচার ছিনিয়ে নিতে আগামী ৯ অগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিচ্ছি।'
গতবারের মতোই এবছরও ১৪ অগস্ট রাত দখলের ডাক দিয়েছে পরিবার। তাঁদের কথায়, 'কোটি কোটি লোক যেমন গত বছর প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছিল। এবছর সেভাবেই পালিত হোক।'
গত বছর ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী জুনিয়র চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য তথা দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। প্রায় সব হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে যায়। দফায় দফায় আন্দোলনে নামে সব মহল।
পুলিশ তদন্তে চালিয়ে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। এরপর তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। দীর্ঘ কয়েকমাস তদন্ত চালিয়েও আর কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি, এই অভিযোগে সরব হয় জুনিয়র চিকিৎসক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল এবং নির্যাতিতার পরিবার।
আরজি করকাণ্ডের কয়েকমাসের মধ্যেই শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে সঞ্জয় একাধিকবার দাবি করেছে, সে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়।
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাঁরা এই তদন্তে সন্তুষ্ট নয়। ধর্ষণ-খুনে কেবল সঞ্জয় একা নয়, আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তাঁরা। এবার ৯ অগস্ট নবান্ন অভিযানে সেই দাবিই জানাতে চলেছে নির্যাতিতার পরিবার।