বিএলও সুপারভাইজার, বিএলও এবং বিএলএ-দের জন্য মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটার, স্থানান্তর হওয়া ভোটার এবং অনুপস্থিত ভোটারদের তথ্য দেওয়ার আলাদা ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করেছে কমিশন।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 4 December 2025 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজ নিয়ে আরও বেশি সতর্কতা দেখাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রতিদিনই তাঁদের পক্ষ থেকে মৃত, ডুপ্লিকেট এবং স্থানান্তর হওয়া ভোটারদের তথ্য সহ নানা আপডেট দেওয়া হচ্ছে। এবার এই সংক্রান্ত ব্যাপারে বিএলও সুপারভাইজার (BLO Supervisor), বিএলও (BLO) এবং বিএলএ-দের (BLA) জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কমিশন। তাঁদের জন্য ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে নিজেদের দায়িত্বে সই করতে হবে।
বিএলও সুপারভাইজার, বিএলও এবং বিএলএ-দের জন্য মৃত ভোটার (Dead Voters), ডুপ্লিকেট ভোটার (Duplicate Voters), স্থানান্তর হওয়া ভোটার এবং অনুপস্থিত ভোটারদের তথ্য দেওয়ার আলাদা ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সেখানে এইসব ভোটারদের তথ্য দিয়ে নীচের সংশ্লিষ্ট জায়গায় সই (Signature) করতে হবে বিএলও সুপারভাইজার, বিএলও এবং বিএলএ-দের এবং তা করতে হবে নিজেদের দায়িত্বে। কোথাও কোনও ভুল হলে যে দায় তাঁদের ওপর বর্তাবে, সেটা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন।

সিইও দফতরের তথ্য বলছে, বুধবার বিকেলের মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি (৯৮.২১ শতাংশ) ফর্ম ডিজিটাইজড হয়ে গেছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মৃত ভোটারের (Dead Voters) সংখ্যা ২৩ লক্ষ পেরিয়েছে। অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ পেরিয়েছে। অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১৭ লক্ষের বেশি। ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা ১.২ লক্ষের বেশি। আপাতত আন-কালেক্টেটবল ফর্ম (Uncollected Forms) ৫০ লক্ষ ২২ হাজার ৪১০।

এখন ভোটারদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই আন-কালেক্টেবল (Uncollectable Form) বলতে ঠিক কাদের কথা বলা হচ্ছে। কমিশন (Election Commission) আগেই জানিয়েছিল, যারা মৃত, পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত, পার্মানেন্টলি শিফটেড অর্থাৎ যাঁরা স্থায়ীভাবে সরে গিয়েছে, আগেই এনরোল করা ছিল বা নাম ছিল এবং অন্যান্যদের মিলিয়ে এই আন-কালেক্টেবল।
যদিও কমিশনের বক্তব্য, যেহেতু এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যাটা আপলোড করা হচ্ছে না, তাই স্বাভাবিকভাবেই আসল সংখ্যাটা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে বেশ কয়েকজন বিএলও-র কাজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির নিয়োগ করা স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।
এদিকে 'প্রোজেনি ম্যাপিং' (Progeny Mapping) নিয়েও কড়া মনোভাব নিয়েছে তাঁরা। কমিশনের নির্দেশ - সবচেয়ে বেশি প্রোজেনি ম্যাপিং (Progeny Mapping) যে সব বুথে হয়েছে সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। যে সব বুথে সবচেয়ে বেশি অনলাইন ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলিকেও স্ক্রুটিনির আওতায় আনতে হবে। বুধবারই এই সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। আর সেই তথ্য দেওয়ার পরই রোল অবজার্ভারদের (Roll Observer) এই জায়গাগুলিতে বিশেষ নজর দিতে এবং রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।
'প্রোজেনি ম্যাপিং' কী
এর অর্থ, যদি কোনও ভোটারের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় না থাকে তাহলে সে যদি নিজের বাবা, ঠাকুরদার নাম দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করিয়েছে।