বাংলায় এসআইআর-এর কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক গাফিলতি ধরা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। জানা গিয়েছে, সে সবই খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রতিনিধি দল আসতে চলেছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 22 December 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় যখন এসআইআর (SIR West Bengal) শুরু হবে হবে করছে, তখন তার প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে না হচ্ছে, সেসব খতিয়ে দেখতে এসেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রতিনিধি দল। সেই সেপ্টেম্বরের পর ডিসেম্বরে ফের রাজ্য সফরে আসছেন কমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়ালও।
বাংলায় এসআইআর-এর কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক গাফিলতি ধরা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। জানা গিয়েছে, সে সবই খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রতিনিধি দল আসতে চলেছে। তাঁরা যেমন একদিকে চলতি এসআইআর পর্বের কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখবেন, এর পাশাপাশি আসন্ন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজে যাতে আর কোনও গাফিলতি না হয়, মূলত সেই বিষয়েই কমিশনের নির্দেশকে মনে করিয়ে দিতে তারা বাংলায় আসছেন।
এদিকে ২৪ ডিসেম্বর নজরুল মঞ্চে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে যে ট্রেনিং হবে, সেখানেও নির্বাচন কমিশনের এই আধিকারিকরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে খবর। কমিশনের এক সূত্র বলছে, যাতে শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে আর কোনও ভুল না হয়, সেই কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই আসছে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল।
এদিকে, এসআইআর (SIR) ইস্যুতে একটি বৈধ ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়, এই লক্ষ্যেই সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) তৃণমূলের বিএলএ (SIR BLO) ও বিএলএ-২দের (SIR BLA) নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই বৈঠক থেকেই দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিযুক্ত করেছে কমিশন। সেই নিয়োগ ঘিরেই আপত্তি মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় কর্মীরা কারা, কোন দফতরের, কোথায় থাকেন—সব কিছুর বিস্তারিত তথ্য তাঁর চাই।
তাঁর কথায়, “আমি শুনেছি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাকে অ্যাপয়েন্ট করা হয়েছে, তারা কোন ডিপার্টমেন্টে কাজ করে, কোথায় থাকে—সব ডিটেলস আমার চাই। আমি ওদের সহযোগিতা করব, কিন্তু ডিটেলস চাই। স্টেটকে না জানিয়ে রাজ্যের লোকেদেরও নিয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভার কারা? না কি বিজেপির দালাল!”
হিয়ারিং ভেন্যু এখনও স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভার হবেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা—এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। “কেন? আমার রাজ্যে ভোট করবে অন্য রাজ্যের লোকেরা? বিজেপির লোকেরা? গুজরাটের লোকেরা? ওরা হিয়ারিং করবে? বাংলার ভাষা জানে? ভাষা বোঝে? সব কিছুর একটা লিমিট থাকা দরকার,” ক্ষোভ উগরে দেন মমতা।
বস্তুত, আনম্যাপড যে ৩২ লক্ষ নাম ছিল, ইতিমধ্যেই তাঁদের সকলের কাছেই হিয়ারিং নোটিস পাঠানো হয়ে গেছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
কমিশন জানিয়েছে, নোটিসের পর নির্দিষ্ট শুনানির দিন যদি কেউ উপস্থিত থাকতে না পারেন তাহলে সেটা আগে থেকে জানাতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রেও পরবর্তী মাত্র একদিন তাঁকে সময় দেওয়া হবে। তার বেশি দেওয়া সম্ভব হবে না।