দার্জিলিং বাদ দিলে উত্তরবঙ্গের থেকেও দক্ষিণবঙ্গে বেশি শীত।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 11 January 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতে এমন চিত্র নতুন নয়, তবে এ বার যেন ঠান্ডার দাপট একটু বেশিই চোখে পড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই তাপমাত্রার লড়াইয়ে উত্তরবঙ্গকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ। দার্জিলিং বাদ দিলে উত্তরবঙ্গের বহু জেলার তুলনায় দক্ষিণবঙ্গেই এখন বেশি কনকনে ঠান্ডা (Weather Update)।
দার্জিলিংয়ের পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যেখানে ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে, সেখানে দক্ষিণবঙ্গের বীরভূমের শ্রীনিকেতনে পারদ নেমেছে ৬.৬ ডিগ্রিতে। এখানেই শেষ নয়, পশ্চিমের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রির ঘরে, এমনকি দু’টি জেলায় তা ৭ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়েছে।
শনিবার দক্ষিণবঙ্গে শীতের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তার প্রভাব পড়েছে কলকাতাতেও। শুক্রবারের তুলনায় প্রায় এক ডিগ্রি কমে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১১ ডিগ্রির ঘরে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫–৬ দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ফলে মকর সংক্রান্তির সময় রাজ্যের সর্বত্রই কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে কুয়াশার দাপট থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঘন কুয়াশার জন্য সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১০ ডিগ্রির ঘরে। পরে পারদ কিছুটা বাড়লেও শীতের আমেজ কমেনি। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ফের তা নিম্নমুখী হয়ে পৌঁছয় ১১.৫ ডিগ্রিতে, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৪ ডিগ্রি কম। এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৭ ডিগ্রি কম।
দুপুরে সূর্যের তেজ কিছুটা থাকায় শীতের কামড় খানিকটা কম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামতেই ফের কনকনে ঠান্ডা ফিরে আসে শহরজুড়ে। এ দিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর একটি গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে এই নিম্নচাপ শ্রীলঙ্কার উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার কথা। তবে আপাতত এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়ার সম্ভাবনা নেই।
চলতি মরশুমের শুরু থেকেই দক্ষিণবঙ্গে শীতের দাপট লক্ষণীয়। দার্জিলিং ছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রায় সব শহরকেই কার্যত টেক্কা দিচ্ছে দক্ষিণের ঠান্ডা। শনিবার দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন। তার পরেই রয়েছে শ্রীনিকেতন, যেখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৬.৬ ডিগ্রিতে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।
এ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমেছে। কল্যাণীতে ৭.৭ ডিগ্রি, বাঁকুড়ায় ৭.২ ডিগ্রি, বর্ধমান ও কলাইকুণ্ডায় ৮.৬ ডিগ্রি, আসানসোলে ৮.৮ ডিগ্রি, বহরমপুরে ৮.৬ ডিগ্রি এবং সিউড়িতে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। উলুবেড়িয়া, কাঁথি, পানাগড়, পুরুলিয়া, ব্যারাকপুর ও ঝাড়গ্রামে তাপমাত্রা রয়েছে ৯ ডিগ্রির ঘরে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের কালিম্পংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মালদায় ৯.৭ ডিগ্রি, জলপাইগুড়িতে ৯.৪ ডিগ্রি, আলিপুরদুয়ার ও রায়গঞ্জে ৯ ডিগ্রি এবং বালুরঘাটে ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে পারদ।