বিধায়কদের উদ্দেশে বৈঠকে সুকান্ত এও বলেন, “আপনাদের অনেকেই নানা প্রলোভন, চাপ, হুমকির মুখে থেকেও দল ছাড়েননি। আপনারা দলের প্রকৃত সৈনিক। আপনাদের সাহসের জন্যই সংগঠন টিকে আছে।”
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 12 November 2025 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বুধবার রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে বিধানসভায় বিশেষ বৈঠকে বসল বিজেপি (MLAs' meeting)। উপস্থিত রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), এবং রাজ্য বিজেপির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠকের শুরুতেই কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়কে (Soumen Roy) উদ্দেশ্য করে সুকান্ত বলেন, “সবাইকে অভিনন্দন। বিশেষ করে সৌমেন রায়কে—কারণ উনি একবার গিয়েও আবার ফিরে এসেছেন!”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সুকান্তের মন্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা ছিল গভীর। যা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিধায়কদের উদ্দেশে বৈঠকে সুকান্ত এও বলেন, “আপনাদের অনেকেই নানা প্রলোভন, চাপ, হুমকির মুখে থেকেও দল ছাড়েননি। আপনারা দলের প্রকৃত সৈনিক। আপনাদের সাহসের জন্যই সংগঠন টিকে আছে।”
২০২১ সালের ভোটে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে সৌমেন রায় কিছুদিন পরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ফের ফিরে আসেন পদ্ম শিবিরে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সুকান্তের প্রশংসা—রাজনৈতিক বার্তা যে স্পষ্ট, তা বুঝতে কারও বাকি নেই।
কারণ, একুশের ভোটে ৭৭টি আসনে জেতার পরও বর্তমানে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা নেমে এসেছে ৬৫-তে। ভোট-পরবর্তী সময়ে একের পর এক বিধায়ক ফের তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন ছাব্বিশের ভোটের আগে ফের ভাঙনের আশঙ্কা করছে বিজেপি। সেই কারণেই দলের নেতারা এখন থেকেই সংগঠনকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। সৌমেন রায়ের উদাহরণ টেনে সুকান্ত মূলত বার্তা দিতে চাইলেন—“দল ছেড়ে যাওয়া মানে ভুল, ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
এদিনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী কী বার্তা দেন, তা নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বিধায়কদের মানসিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং আগামী নির্বাচনের আগে দলের ভিত শক্ত করতে এই বৈঠক এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ।