বৃদ্ধ দম্পতি বলেন, "এটা কী করে মেনে নিই বলুন তো! আমার ছেলে জীবিত। তাকে মৃত বলে দেওয়া হচ্ছে। এটা একটা ভুল। এই ভুল যে করেছে তাকেই সংশোধন করতে হবে। আমরা এই বয়সে দৌড়ঝাঁপ করতে পারব না।"

শেষ আপডেট: 17 December 2025 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মঙ্গলবার SIR এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে ডানকুনির তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে'র নাম রয়েছে মৃতের তালিকায়। প্রতিবাদে শ্মশানে গিয়ে বসেছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের জীবিত কাউন্সিলর। আর বুধবার দেখা গেল চুঁচুড়া বিধানসভার নলডাঙার ১২০ নম্বর বুথের বাসিন্দা বৃদ্ধ দম্পতি স্নেহময় ও শিখা ভট্টাচার্যের বড় ছেলে দেবময় ভট্টাচার্যকে মৃত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেবময় গত চার বছর ধরে জামশেদপুরের বাসিন্দা। সেখানে স্ত্রী মনিকাকে নিয়ে থাকেন চাকরির সুবাদে। জামশেদপুরেই তাঁর ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। তাই এরাজ্যে এসআইআর শুরু হতেই বিএলওকে সব তথ্য দিয়েছিলেন দেবময়ের বাবা। জামশেদপুরের ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিলেন বিএলওকে। দেবময় নিজেও বিএলওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন।
অথচ তালিকা বের হতেই দেখা গেল তাঁর নামের পাশে মৃত লেখা।
বিএলওকে বিষয়টি জানান, দেবময়ের মা বাবা। বিএলও তাঁদের টেলিফোনে জানান, তাঁর কাছে যে তথ্য আছে তাতে দেবময় ও মনিকার নাম অন্য জায়গায় রয়েছে। অর্থাৎ ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত। সেখানে কী করে মৃতের তালিকায় তাঁর নাম এল তা বুঝতে পারছেন না। কোথাও একটা ভুল হয়েছে। মনিকার নাম ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেখালেও দেবময়ের পাশে লেখা মৃত।
বৃদ্ধ দম্পতি বলেন, "এটা কী করে মেনে নিই বলুন তো! আমার ছেলে জীবিত। তাকে মৃত বলে দেওয়া হচ্ছে। এটা একটা ভুল। এই ভুল যে করেছে তাকেই সংশোধন করতে হবে। আমরা এই বয়সে দৌড়ঝাঁপ করতে পারব না।"
দেবময় জামশেদপুর থেকে ফোনে বলেন, "এরা জীবিত মানুষকে মৃত বলে দিচ্ছে, কিছু বলার নেই। আমি আর আমার স্ত্রী জামশেদপুরে থাকি। তাই আবেদন করেছিলাম যাতে নলডাঙা থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়া হয়। আমি নিজে বিএলওর সঙ্গে কথা বলেছি। তারপরও এরকম হলে সেটা মানসিক অত্যাচার।"
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের মৃত ও স্থানান্তরিতদের তালিকায় মৃত হিসাবে নাম প্রকাশিত হয়েছে ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে'র। যা নিয়ে তুমুল হইচই পড়েছে ডানকুনি এলাকায়। বাতিলের তালিকা নিজের নাম মৃত দেখার পর পায়ে হেঁটে কালীপুর শ্মশানে পৌঁছন তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে'। সঙ্গে তাঁর সহকর্মীরা। সূর্য বলেন, "ইলেকশন কমিশন যখন আমাকে মৃত দেখিয়ে দিয়েছে, তখন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশকুমার এসে আমার সৎকার করুক।"