বড়দিনের আগেই দার্জিলিং ও সিকিমে তুষারপাতের পূর্বাভাসে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 11 December 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিং ফের পর্যটকে জমজমাট। বড়দিনের আগেই পাহাড়ে উপচে পড়ছে পর্যটকদের ভিড়। তুষারপাতের সম্ভাবনার জেরে ২৫ ডিসেম্বরের আগেই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে হোটেল-রিসর্টগুলি। ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশেরও বেশি হোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছে। বহুদিন পর হাসি ফুটেছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে। ধসের জন্য রোহিণী পথ বন্ধ থাকলেও পাহাড়ের বাকি সব রাস্তা এখন খোলা। একই ছবি সিকিমেও, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং বাগরাকোট হয়ে ৭১৭ (এ) জাতীয় সড়কও খুলে গিয়েছে।
তবে হঠাৎ এত বুকিং বাড়ার আসল কারণ শুধু ছুটি নয়, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের গ্যাংটকের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহার কথায়, “বড়দিনে সিকিম ও দার্জিলিংয়ে স্নোফলের সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝের ১৫ দিনে অনেক পরিবর্তন হতে পারে, তবে এখনও পর্যন্ত বড়দিনের দিন তুষারপাতের আভাস মিলছে।”
বুধবারও দার্জিলিং থেকে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ফলে তুষারপাত দেখার আশায় বহু পর্যটক আগাম হোটেল বুক করে ফিরে যাচ্ছেন। এ বছর লা নিনার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শীত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পড়ার কথা। পাহাড়েও ঠান্ডা কতটা নামতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ভোরবেলা দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছে, গ্যাংটকের তাপমাত্রাও ঘুরছে ৭ ডিগ্রির আশপাশে।
প্রতি বছর যেমন পর্যটকরা এই সময় ঠান্ডার আমেজ নিতে পাহাড়ে ভিড় করেন, এ বার তুষারপাতের সম্ভাবনা সেই ভিড়কে দ্বিগুণ করেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, দার্জিলিংয়ে বরফ পড়লে সিকিম শুকনো থাকার প্রশ্নই নেই, ফলে বড়দিনের মরসুম এ বার পাহাড়ে আরও জমজমাট হতে চলেছে।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “পাহাড়ে বড়দিনের বুকিং বেশ ভাল। পুজোয় যে ভাবে পর্যটন মার খেয়েছে, এই মৌসুমে তার অনেকটা পুষিয়ে যেতে পারে। তুষারপাত হলে ভিড় আরও বাড়বে।”
সিকিমের হোটেল ব্যবসায়ীরাও উচ্ছ্বসিত। সেখানে লিজ়ে হোটেল চালানো বহু বাঙালি রয়েছেন, আর বাঙালি পর্যটকদের ভিড়ও সবচেয়ে বেশি ওই সব হোটেলেই। তবে এই আনন্দের মধ্যেও কিছু মন খারাপের খবর আছে।
আবগারি দফতরের নির্দেশে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে পানীয়প্রেমীদের জনপ্রিয় জায়গা প্লেনারিজ়ের বার। পাশাপাশি লোকাল সাইট সিয়িং নিয়ে পাহাড়-সমতলের গাড়ি চালকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। যদিও ব্যবসায়ীদের আশা, পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়লেই এই সমস্যা মিটে যাবে।