দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালও যে ব্যবসায়ীর কান্নাভরা হতাশ মুখ দেখেছিল গোটা নেট-দুনিয়া, রাত পোহাতেই সেই মানুষটির দোকানে উপচে পড়া ভিড়ের ছবি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঠিক যেন ম্যাজিক! দিল্লির ঘটনা আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নেটিজেনদের মানবিক গুণ ঠিক কতটা, তাঁদের ঐক্যবদ্ধ সুচেষ্টা কী না ঘটাতে পারে!
বর্তমান ব্যস্ত জীবনের এক অন্যতম মাধ্যম, এক অতি জরুরি অংশই বলা যায় সোশ্যাল মিডিয়াকে। কথায় বলে, এই মিডিয়া চাইলে নাকি সব পারে। যেমন দিনকে রাত করতে পারে, তিলকে তাল করতে পারে, তেমনই বদলে দিতে পারে কারও ভাগ্যও! এ নিয়ে রীতিমতো বিতর্কের আয়োজন করা যেতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়া আশীর্বাদ না অভিশাপ।
দিল্লির মালব্য নগরের ছোট্ট খাবার দোকান 'বাবাকা ধাবা'র কথাই ধরা যাক। এক বৃদ্ধ মানুষ সে দোকানে মটর-পনির বিক্রি করেন, সঙ্গে রুটি, পুরী। লকডাউনের কয়েক মাস ধরে বিক্রিবাটা প্রায় নেই। সংসার চালানোর, পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার উপায় বলতে এই দোকানটুকুই। গতকালই এই দোকানের একটা ছোট্ট ভিডিও কেউ পোস্ট করেন টুইটারে। দেখা যায়, বৃদ্ধ মালিক অঝোরে কাঁদছেন। দেখাচ্ছেন তাঁর বিক্রি না হওয়া খাবার। চোখেমুখে স্পষ্টতই গভীর ভাঙন।
দেখুন সেই ভিডিও।
https://twitter.com/VasundharaTankh/status/1313881005179064320
অসহায়তা, অসংশয়ের এই দৃশ্য টুইটারে পোস্ট হতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নির্দিষ্ট ধাবাটির ভিডিও, মালিকের কান্না। মন ছুঁয়ে যায় সকলের।
তবে শুধু মনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকেনি এই অনুভূতি। বাস্তবেও ঘটে যায় ম্যাজিক। আজ সকাল থেকে 'বাবাকা ধাবা'র সামনে তিলধারণের জায়গা নেই! একের পর এক খদ্দের এসে খেয়ে চলেছেন মটর-পনির। বৃদ্ধ মালিক তো অবাক হয়ে গেছেন! তিনি না জানেন এই নেট-দুনিয়ার কারসাজি, না জানেন নিজের ভাইরাল হওয়ার খবর। তবে সে যাই হোক না কেন, আবার আগের মতো খদ্দের পেয়ে, খাবার বিক্রি করতে পেরে, তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
দেখুন কেমন ভিড় আজ সেই দোকানে!
https://twitter.com/iashutosh23/status/1314086440712585216
বহু মানুষ জেনেছেন বৃদ্ধ মালিকের অসহায়তার কথা, তাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন এভাবেই। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আর কার সাধ্য ছিল, এমন করে রাতারাতি বৃদ্ধের চোখের জল মুছিয়ে ভাগ্য বদলে দেওয়া! 'দিলওয়ালে দিল্লি'র তরফে এই অভূতপূর্ব সাড়া মেলায় এখন টুইটারে রীতিমতো দাপিয়ে রাজত্ব করছে 'বাবাকা ধাবা'। দিকে দিকে ঘুরছে সে দোকানের ভিড়ের ছবি, এবং মটর পনিরের সুখ্যাতি।

সকলে যে শুধু ভাইরাল ভিডিও দেখে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে কুর্নিশ করছেন তাই নয়। পাশাপাশি একটা বড় অংশের মানুষ, যাঁরা খবর পেয়ে ওই ধাবায় খেয়ে এসেছেন, তাঁরা বলছেন "এ যাবৎ সেরা মটর পনির এই দোকানেই খেলাম!"