
শেষ আপডেট: 20 December 2023 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের দাবিতে এক সময়ে গান্ধীমূর্তির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন নলহাটির সোমা দাস। তিনি যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। শরীরে ক্যানসার রোগ নিয়ে আন্দোলনে বসেছিলেন। তাঁর ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে পড়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সোমার চাকরির ব্যবস্থার জন্য নবান্নের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। তার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চাকরি পেয়েছেন সোমা।
বুধবার সেই সোমা দাসের উদাহরণ দেখিয়ে এসএলএসটি চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জন সল্টলেকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে যান। প্রথমে তাঁদের পুলিশ আটকায়। পরে বিচারপতি নিচে নেমে আসেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে।
চাকরিপ্রার্থীরা বিচারপতিকে বলেন, আপনি সোমা দাসের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমাদেরও দিন। আমরা যোগ্য প্রার্থী। বিচারপতিদের এই আর্জি আবেদন শুনে এদিন আদালতে কাউকে ফোন করেন বিচারপতি। তিনি জানার চেষ্টা করেন, কেন তাঁদের নিয়োগ আটকে রয়েছে।
তার পর ফোন রেখে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আপনাদের মামলাটি অন্য একজন জজ সাহেবের কাছে রয়েছে। এভাবে সমাধান হবে না। এর পরেও চাকরিপ্রার্থীরা সোমা দাসের উদাহরণ দেন। জবাবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সোমা দাসকে আমি চাকরি দিইনি। তাঁর অবস্থা দেখে চাকরির সুপারিশ করেছি মাত্র। ওনাকে চাকরি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ব্যাপারটি খুবই সহানুভূতির সঙ্গে দেখেছিলেন।”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এদিন চাকরিপ্রার্থীদের বারবার প্রশ্ন করেন যে, তাঁদের আইনজীবী কে? জবাবে চাকরিপ্রার্থীরা বিচারপতিকে বলেন, তাঁদের কাছে আর মামলা লড়ার টাকা নেই। তা শুনে বিচারপতি বলেন, মামলা লড়ার জন্য টাকা না থাকলে তারও উপায় রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে লিগাল এইড বলে একটা শাখা রয়েছে। সেখানে গিয়ে আবেদন করলে তারা একজন আইনজীবীর ব্যবস্থা করে দেবেন।
অনেকের মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যেভাবে বিচারপতির বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তা খুবই নাটকীয় ঘটনা। বাংলায় এ এক নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি হচ্ছে। যা শুভ লক্ষণ নয়।