পরিবারের লোকের তৎপরতা আর ডাক্তারবাবুর সময় সিদ্ধান্ত বাঁচিয়ে দিয়েছে চিকুর প্রাণ

শেষ আপডেট: 13 September 2025 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বাড়ির মেয়েকে বাঁচাতে চন্দ্রবোড়ার ছোবল খায় ছ বছরের চিকু। দ্রুত নেতিয়ে পড়ছিল। বৃষ্টির মধ্যে বাইক চালিয়ে ৩০ কিলোমিটার দূরের বর্ধমানে নিয়ে আসেন মা আর বাবা। তারপর...?
চিকু এখন ভাল আছে। কয়েকদিন আগেই জীবনমরণ সমস্যা হয়েছিল চিকুর। ভয়ংকর চন্দ্রবোড়ার বিষে ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ছিল। ব্লিডিং শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখন চিকু সুস্থ। পরিবারের লোকের তৎপরতা আর ডাক্তারবাবুর সময় সিদ্ধান্ত বাঁচিয়ে দিয়েছে চিকুর প্রাণ।চিকু একটি ছ'বছরের স্পিটজ। খুব ঘরোয়া আর পারিবারিক হওয়ায় কম জায়গায় দিব্যি মানিয়ে নেয়। আবার পাহারাও দিতে পারে। একটু উনিশ বিশ দেখলেই চিৎকার করে পাড়া মাথায় তোলে। সেদিনও একটা বিপদ আঁচ করেছিল ছ'বছরের চিকু। বাড়ির মেয়েটি ফ্রিজ থেকে দুধ বার করতে গিয়েছিল। ঘরের কোণে ওঁত পেতে ছিল রাসেল ভাইপার। চন্দ্রবোড়া! সেসময় মেয়েটিকে বাঁচাতেই সাপের ছোবল খায় চিকু। পরিবারের কর্তা রামতনু দাস জানান, "ও নিজের উপর নিয়ে নিয়েছে। এ বিপদ আমার মেয়েরই হতো। যদিও চিকুও আমার মেয়ে।"
বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে বাড়ি রামতনুর। দেরি করেননি রামতুন আর ইতু। বাইকে চাপিয়ে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে চিকুকে নিয়ে যান বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটিতে। ইতু দাস বলেন, "পা গুলো নীল হয়ে গিয়েছিল। রক্তবমি শুরু হয়ে গিয়েছিল। পিছন থেকেও রক্ত বেরোচ্ছিল। চনমনে চিকু ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ছিল। আশা কমে আসছিল।" তারপরে বিশিষ্ট প্রাণী চিকিৎসক পার্থ সরকারের কয়েকদিনের চিকিৎসায় এখন সুস্থ চিকু। ফিরে গেছে বাড়ির চেনা জগতে। ডা: সরকার এর আগেও তিনটি সাপের ছোবলে অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা করেছেন।অ্যান্টিভেনাম পাওয়া সহজ নয়। আরও কঠিন চন্দ্রবোড়ার ছোবলের আফটার শক। ধীরে কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু চোখ রাঙাতে থাকে। তিনি জানান, ভারতের গ্রামীণ ও আধা–শহর অঞ্চলে বর্ষাকাল এলেই সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। নদী–নালা খানা -খন্দ উপচে পড়ে, গর্তে বর্ষার জল ঢুকে যায় এবং সাপ আশ্রয় খুঁজতে মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে চলে আসে। এসময় শুধু গবাদি পশুই নয়, ঘরোয়া পোষা প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর ও বিড়ালের সাপের দংশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, "এদের মধ্যে চন্দ্রবোড়ার ছোবলের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে এবং তা বেশিরভাগই প্রাণঘাতী হতে পারে। সবচেয়ে বিপদ হয় তখন যখন বুঝতে দেরি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মালিক চন্দ্রবোড়া সাপটিকে দেখতে পান এবং ওর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরা, ফোলা আর দুর্বলতা দেখেই আমার কাছে নিয়ে আসেন।" তিনি জানান, চিকুর রক্ত পরীক্ষায় Whole Blood Clotting Test (WBCT20) পজিটিভ আসে, যা হেমোটক্সিক বিষক্রিয়াকেই নিশ্চিত করে। চিকুর রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর দশ ভাওয়েল অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগ করতে হয়। এখন ও ভাল আছে।