এই প্রজন্ম হয়তো তাঁর ছবির সঙ্গে সেভাবে পরিচিত নন, কিন্তু মধ্য চল্লিশের মানুষজন এখনও জানতে পেরে ছুটে আসেন বোকরা গ্রামে শক্তি সামন্তর বাড়ি দেখতে।

শেষ আপডেট: 28 August 2025 18:00
চন্দন ঘোষ, বর্ধমান: ছোট্ট এক গ্রাম। নাম বোকরা। পূর্ব বর্ধমানের রায়নায়। সেখানেই জন্মেছিলেন সেই বাঙালি ছেলেটি, যিনি একদিন ঝড় তুলেছিলেন বলিউডের পর্দায়। শক্তি সামন্ত। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যে নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাজেশ খান্না-শর্মিলা ঠাকুরের আরাধনা, বা কাটি পতঙ্গ, অমর প্রেম, অমানুষ-এর মতো কালজয়ী সব ছবি। এই প্রজন্ম হয়তো তাঁর ছবির সঙ্গে সেভাবে পরিচিত নন, কিন্তু মধ্য চল্লিশের মানুষজন এখনও জানতে পেরে ছুটে আসেন বোকরা গ্রামে শক্তি সামন্তর বাড়ি দেখতে।
১৯২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি এই গ্রামে জন্ম হয়েছিল শক্তি সামন্তর। স্বামী ভোলানন্দ বিদ্যায়তনে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তারপর দেরাদুনে পাড়ি দেন। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর কাকার সঙ্গে সেখানেই তাঁর বড় হওয়া। তখনই বলিউড হাতছানি দিত। কখনও অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছে, কখনও প্লেব্যাক গায়ক হওয়ার বাসনা। এসডি বর্মণের কাছে অডিশনও দিয়েছিলেন। বর্মণ বলেছিলেন,"একক গান নয়, কোরাসে সুযোগ মিলতে পারে।"
গান গাওয়ার ইচ্ছে ধাক্কা খেলেও শক্তি সামন্ত সেখানেই থেমে যাননি। বোম্বে টকিজে সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু হয় অন্য যাত্রা। কাজ করেছেন জ্ঞান মুখার্জি, ফণী মজুমদারের মতো পরিচালকের সঙ্গে। অবশেষে একার ছবি। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি 'বাহু'। এরপর একে একে ইন্সপেক্টর, ডিটেকটিভ, হিল স্টেশন মুক্তি পায়।
১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রযোজনা সংস্থা শক্তি ফিল্মস। সেখান থেকেই আসে মাইলস্টোন ছবি হাওড়া ব্রিজ। সেই ছবিতে মধুবালার লিপে আশা ভোঁসলের গাওয়া ‘আইয়ে মেহেরবান’ হয়ে ওঠে কালজয়ী। ১৯৬৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত আরাধনা গোটা দেশে ঝড় তোলে। রাজেশ খান্না-শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত সেই ছবি টানা ৫০ সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল। এরপর একের পর এক ক্লাসিক— কাশ্মীর কি কলি, চায়না টাউন, কাটি পতঙ্গ, অমর প্রেম, আনন্দ আশ্রম, অমানুষ, বরসাত কি এক রাত, শুধু প্রেম বা বিনোদন নয়, সামাজিক বার্তাও ছড়িয়েছেন ছবির পর্দায়।
জীবদ্দশায় খুব বেশিবার গ্রামে না ফিরলেও, আজও মানুষ ভিড় জমান বোকরার শক্তি সামন্তের বাড়িতে। ঘরের দেওয়ালে হাত ছুঁইয়ে দেখেন। গ্রামের এই বাড়িটিই যে ভারতীয় সিনেমাকে উপহার দিয়েছিল এক কিংবদন্তি। সেই গর্ব এখনও তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন বোকরা গ্রামের মানুষ।