
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 April 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় (Waqf Bill Protest) মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) উত্তাল হয়েছিল। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি জ্বালানো, সবই হয়েছে। জেলার একাধিক জায়গায় কার্যত তাণ্ডব চালানো হয়েছে যার জেরে মৃত্যুও ঘটেছে। গত শুক্রবার থেকে এই পরিস্থিতি ছিল। তবে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য পুলিশ জানিয়েছিল, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে। মঙ্গলবার সেই বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হল।
সোমবার রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম জানিয়েছিলেন, গত ৩৬ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে কোনও অশান্তি হয়নি। ঘর ছাড়া মানুষদের অনেকেই নিজ-নিজ বাড়ি ফিরেছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও বেশি স্বাভাবিক মুর্শিদাবাদে। ব্লক স্তর, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পাড়ায়-পাড়ায় একাধিক শান্তি বৈঠকও নাকি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেই বৈঠকের সংখ্যা প্রায় ১০০- কাছাকাছি। শুধু তাই নয়, নববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলায় বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টির দোকানও খুলেছে। গ্রাহক কম হলেও, বিক্রিবাটা হচ্ছে।
অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের রুটমার্চ এখনও হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশ বাহিনীও। তাঁদেরই তৎপরতায় ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে এলাকাগুলি। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া আটকাতে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বুথ স্তরে শান্তি কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, উস্কানি ও প্ররোচনার ঘটনায় ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য পুলিশ। আবার সোমবারই জাভেদ শামিমের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, যারা যারা অশান্তির ঘটনায় যুক্ত তাদের সকলকে খুঁজে বের করা হবে। দরকারে পাতালেও যাবেন তাঁরা! পাশাপাশি এও জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতারি ২০০ ছাড়িয়েছে, এফআইআরের সংখ্যাও বাড়ছে।
মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে ভাঙড়... গত শুক্রবার থেকে লাগাতার ওয়াকফ ইস্যুতে অশান্তি হচ্ছে বাংলায়। এই নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, একটি সম্প্রদায়ের মানুষ তাণ্ডব চালালেও কড়া পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করে তাঁর বক্তব্য, 'ইচ্ছে করে হিন্দুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি।'