শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট, শুধু উপস্থিতি নয়, ‘কাজে-সময়ে পাওয়া যায় কি না’, এটাই আসল মাপকাঠি। আর সেই কর্মতৎপরতার নিরিখেই ২০২৬–এর টিকিট বণ্টনেও ভূমিকা নিতে পারে এই রিপোর্ট।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) এর সময় মানুষের পাশে থাকতে হবে, দলের বিধায়কদের উদ্দেশে সেই বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Avishek Banerjee)। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে? এসআইআর পর্বে মাঠে নেমে কাজ করা বিএলএ–দের (BLA) পাশে দাঁড়িয়েছেন কি বিধায়করা (MLA)?—এ বার তা-ই খতিয়ে দেখতে শুরু করল তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা।
দলীয় সূত্রের খবর, বারাসত থেকে বসিরহাট—একাধিক সাংগঠনিক এলাকায় ইতিমধ্যেই ফোন যাচ্ছে বিএলএ–২দের কাছে। প্রশ্ন উঠছে সরাসরি, বিধায়ক কি শুনানির সময়ে পাশে ছিলেন? এলাকায় কতটা সময় দিয়েছেন? সমস্যা হলে সাহায্য মিলেছে? এসব উত্তরই এখন নথিবদ্ধ হচ্ছে রিপোর্ট কার্ডের খাতায়।
শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট, শুধু উপস্থিতি নয়, ‘কাজে-সময়ে পাওয়া যায় কি না’, এটাই আসল মাপকাঠি। আর সেই কর্মতৎপরতার নিরিখেই ২০২৬–এর টিকিট বণ্টনেও ভূমিকা নিতে পারে এই রিপোর্ট।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সতর্ক করেছিলেন, যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে চলবে ধারাবাহিক আন্দোলন। সেই কারণেই একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএলএ–২দের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন তিনি। আর মাঠস্তরে যাঁরা সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের জবানবন্দি নিয়েই চলছে তথ্য-সংগ্রহ।
দলীয় সূত্রের দাবি, বারাসত সাংগঠনিক জেলায় কয়েকটি ক্ষেত্রে ‘বিধায়ককে কাছে না-পাওয়া’র অভিযোগ জমা পড়েছে। দেগঙ্গা নিয়ে রিপোর্ট মিশ্র। বসিরহাটের একাধিক কেন্দ্রেও মতভেদ, যেখানে অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্যের প্রতিফলন দেখছেন সংগঠনের কিছু নেতৃত্ব।
বারাসতের এক বিএলএ জানান, “আমাকে পরিষ্কার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিধায়ক যোগাযোগ রাখেন কি না। আমি বলেছি—উনি এসআইআর পর্বে আমাদের সঙ্গে ছিলেন না।” অন্যদিকে, হাড়োয়ার এক বিএলএর বক্তব্য, “এলাকায় ক্যাম্প হয়েছে, কাজও হয়েছে—সেটাই জানিয়েছি। তবে বিধায়ক নিয়ে কী মত দিয়েছি, তা বলব না।”
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এসআইআরকে ঘিরে যেমন পথে-ঘাটে তৎপরতা,তেমনই দলের ভিতরেও শুরু হয়ে গিয়েছে নিঃশব্দ ঝাড়াই–বাছাই। শেষমেশ এই জনসংযোগের ‘রিপোর্ট কার্ড’ টিকিটের তালিকায় কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে, বিশেষত বিধায়কদের কৌতূহল তুঙ্গে।