শনিবার কমিশনের নব নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের পৌরোহিত্যে ১২ জন রোল অবজারভার তথা সিনিয়র আইএএস অফিসারকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কতগুলি বিষয় সুনির্দিষ্ঠ ভাবে উঠে আসে।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 November 2025 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন আমলা তথা একদা বাংলার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জওহর সরকার (Jawhar Sircar) বলেছিলেন, বর্তমান ভোটার তালিকায় (Voter List) প্রচুর জল রয়েছে। অন্তত ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে (SIR West Bengal)। কিন্তু ঘটনা হল, প্রায় ৯০ শতাংশ ফর্মের ডিজিটাইজেশনের (Enumeration Form) কাজ শেষ হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার মৃত ভোটারকে (Dead Voter) চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানান্তরিত ভোটার ও ডুপ্লিকেট ভোটারের (Duplicate Voter) সংখ্যা মিলিয়ে ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বাদ গিয়েছে। সূত্রের খবর, এতেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। কারণ, তাদের আনুমানিক হিসাবে ছিল এই সংখ্যাটা অন্তত এর দ্বিগুণ হওয়ার কথা।
জহর সরকারের কথায়, ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪.৫৮ কোটি। ০.৮৩ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধিতে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি হলে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা সর্বাধিক ৬ কোটি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তালিকায় ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭.৬৪ কোটি, যা পরিসংখ্যানের দিক থেকে অস্বাভাবিক বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, “৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভোটার ভুয়ো বা মৃত হতে পারেন।”
শনিবার কমিশনের নব নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের পৌরোহিত্যে ১২ জন রোল অবজারভার তথা সিনিয়র আইএএস অফিসারকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কতগুলি বিষয় সুনির্দিষ্ঠ ভাবে উঠে আসে।
এক, ডিজিটাইজেশনের কাজ অনেক জেলায় তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে। ফলে মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারের প্রকৃত সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। তাতে কোনও স্বচ্ছ ছবি পাওয়া যাচ্ছে না।
দুই, কোচবিহার আর মালদহ জেলায় মৃত ভোটার ও ডুপ্লিকেট ভোটার ও শিফটেড ভোটার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্তর। তিনি বৈঠকে বলেন, “সিইও বলছেন তারপরও কেন হচ্ছে না। আর কার ইন্সট্রাকশনের জন্য অপেক্ষা করছেন? যারা নেই যাদের পাওয়া যাচ্ছে সেই তথ্য আপলোড কেন করছেন না? আর কে বললে করবেন?”
তিন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও এবং স্বাভাবিক নিয়মে যে রিভিশন হয় তাতেও যে সংখ্যায় নাম বাদ যায়, সেই তুলনায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় উঠে আসা তথ্য সন্তোষজনক নয়।
চার, স্পেশাল রোল অবজারভার স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সব এলাকায় সন্তোষজনক কাজ হয়নি সেখানকার বিএলওদের ভূমিকা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
পাঁচ, আজ রবিবার থেকে অবজারভাররা জেলায় জেলায় যাচ্ছেন। প্রতিটি জেলার জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ইআরও, সবার সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠকও করবেন। শুধু তাই নয় এনুমারেশন ফর্ম যা জমা হয়েছে এবং ডিজিটাইজেশন হয়েছে তার স্যাম্পেল চেকিংও হবে।