সূত্রের খবর, আপাত ভাবে কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশ জারি করার ছবিটা সহজ, নেপথ্য কাহিনিটা ততটা সহজ কিন্তু ছিল না। বরং সেই চিত্রনাট্য টানটান ও টানাপড়েনে ভরা।
.jpeg.webp)
মুখ্যমন্ত্রী ও জ্ঞানেশ কুমার।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 10:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে কিছুটা চমকে দিয়ে শুক্রবার সন্ধেয় ১২ জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার (West Bengal SIR – Electoral Roll Observer) নিয়োগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একজন স্পেশাল ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার কমিশন নিয়োগ করেছে। ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারদের কাজ হবে জেলা ধরে ধরে ডিইও অর্থাৎ জেলা শাসক এবং ইআরও-দের কাজ পর্যালোচনা করা। কোথাও ভুল হলে ধরিয়ে দেওয়া এবং SIR–এর প্রতিটি ধাপ যেন কমিশনের নির্দেশ মতো হয়, তা নিশ্চিত করা। আর স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তর কাজ হবে সামগ্রিক ভাবে ভোটার তালিকায় সংশোধনের প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা।
সূত্রের খবর, আপাত ভাবে কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশ জারি করার ছবিটা সহজ, নেপথ্য কাহিনিটা ততটা সহজ কিন্তু ছিল না। বরং সেই চিত্রনাট্য টানটান ও টানাপড়েনে ভরা।
রাজ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা সিইও দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, সুব্রত গুপ্তর নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয়। উনি অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার। ওঁকে স্পেশাল রোল অবজার্ভার পদে বেছে নিতে কোনও অসুবিধা হয়নি কমিশনের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১২ জন আইএএস অফিসারকে বেছে নেওয়া সহজ ছিল না। নিয়ম হল, এভাবে পর্যবেক্ষক রাজ্য সরকারের কাছে অফিসারদের একটি তালিকা চান। তার পর কমিশন পছন্দ মতো বেছে নেয়।
কমিশনের একটি সূত্রে দাবি, কমিশনকে রাজ্য সরকার যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তাতে কিছু দুঁদে আমলার নাম ছিল। যাঁরা রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দফতরে সচিব পদে রয়েছেন। কমিশনের ওই সূত্রের দাবি, নবান্নর পাঠানো তালিকায় স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব উলগানাথন, জন স্বাস্থ্য কারিগরি সচিব সুরেন্দ্র গুপ্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং বিদ্যুৎ দফতরের সচিব শান্তনু বসু-সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র আমলার নাম ছিল। বলা হয়েছিল, এঁরা প্রবীণ ও অভিজ্ঞ অফিসার। জেলার বিষয়গুলো ভাল বোঝেন।
কিন্তু কমিশন পাল্টা যুক্তি দেয়। কমিশন জানিয়ে দেয়, যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের এক মাসের জন্য রোল অবজার্ভার পদে নিয়োগ করলে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটবে। বরং তুলনায় যাঁরা ‘কম গুরুত্বপূর্ণ পদে’ রয়েছেন, তেমন আমলাদেরই বেছে নেওয়া ভাল। তবে এ কথা বললেও, কমিশনের তৈরি প্রাথমিক তালিকায় কয়েকজন সিনিয়র আমলার নাম রয়েই গেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবার তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, প্রতিটি নাম ধরে ধরে স্ক্রুটিনি হয়েছে।
নবান্নে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য গল্প। এক শীর্ষ আমলার কথায়, সব জমানায় সব সরকারের আমলেই দু’ধরনের আমলা থাকেন। কিছু আমলা গুরুত্বপূর্ণ পদ বা জেলার দায়িত্ব পান, কিছু আমলা পান না। বাম জমানাতেও তাই ছিল। এখনও তাই রয়েছে। সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই সেটা দস্তুর। ফলে কিছু অফিসারের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ বা অপ্রাপ্তির বেদনা থাকেই। সে দিক থেকে কমিশন যেভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অফিসারদের বেছে নিয়েছে তা তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের কর্তারা অবশ্য এ ব্যাপারে হাত তুলে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, যা করার জাতীয় নির্বাচন কমিশন করেছে। তবে এও ঘটনা যে রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা ধারণায় চলে। অনেকের মতে, অফিসারদের বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের স্থানীয় অফিসারদের ভূমিকাই ছিল বড়। দিল্লি তাঁদের কথাই শুনেছে।
জেলায় জেলায় যে আইএএস অফিসারদের ইলেক্টোরাল রোল অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁদের তালিকা নীচে দেওয়া হল—
জেলায় জেলায় নিম্নলিখিত আইএএস অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—
১) স্মিতা পান্ডে—পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম
২) তন্ময় চক্রবর্তী—মুর্শিদাবাদ, মালদা
৩) রণধীর কুমার—উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা (উত্তর)
৪) সি. মুরুগান—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা (সাউথ)
৫) আর. অর্জুন—কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি
৬) রাজীব কুমার / জগদীশ মিনা—হাওড়া
৭) নীলম মিনা—পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম
৮) অশ্বিনী কুমার যাদব—উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর
৯) নিরঞ্জন কুমার—দার্জিলিং, কালিম্পং
১০) দেবী প্রসাদ করানাম—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া
১১) রচনা ভগত—নদিয়া
১২) ড. বিশ্বনাথ—হুগলি