এই সুপার চেকিং পর্বে প্রতিটি দলে থাকছেন একজন অবজার্ভার। তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন ২৫ জন করে মাইক্রো অবজার্ভার। তাঁরা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে শুনানির সময় জমা পড়া নথিগুলি পরীক্ষা করছেন।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 29 January 2026 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR West Bengal) পর্ব ঘিরে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) নজরদারি আরও কড়া করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বৃহস্পতিবার থেকে বাংলায় শুরু হয়ে গেল ‘সুপার চেকিং’ (Super Checking) প্রক্রিয়া। সিইও দফতর সূত্রে খবর ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধনের কাজ কতটা নিয়ম মেনে হচ্ছে, কোথাও বাড়তি বা কমিশনের অনুমোদিত নয়, এমন কোনও নথি গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, সে সব খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ পর্যবেক্ষণ।
এই সুপার চেকিং পর্বে প্রতিটি দলে থাকছেন একজন অবজার্ভার। তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন ২৫ জন করে মাইক্রো অবজার্ভার। তাঁরা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে শুনানির সময় জমা পড়া নথিগুলি পরীক্ষা করছেন। কমিশনের নির্ধারিত নথির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, জমা দেওয়া কাগজপত্র আদৌ বৈধ কি না।
শুরুর দিনেই কমিশনের নজরে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি। জানা গিয়েছে, কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরেও বহু নথি জমা পড়েছে। সুপার চেকিংয়ের মাধ্যমে ওই সব নথি যাচাই করার পর যদি প্রমাণ হয় যে কেউ অনুমোদিত তালিকার বাইরে নথি জমা দিয়েছেন, তবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে বাতিল বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে না।
এসআইআর-এর কাজ নিয়ে কমিশনের অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে আরও একটি সিদ্ধান্তে। আগামী কাল উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। এই দুই জেলার অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কমিশন বলেই সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার বাংলায় পৌঁছেছেন রোল ইনচার্জ সঞ্জয় কুমার (ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার)। তিন দিন তিনি রাজ্যেই থাকবেন। এই সময়ে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় পরিদর্শনে যাবেন কমিশনের এই শীর্ষ আধিকারিকেরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন, এসআইআর-এর কাজ বাস্তবে কী ভাবে হচ্ছে।
এদিকে, শুনানির নথি আপলোড ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন সূত্রে খবর, স্পেশ্যাল অবজার্ভাররা ইচ্ছাকৃত ভুলের একাধিক উদাহরণ চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখেই এই অনিয়মের সন্ধান মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে শুধু ভুলের কথা নয়, সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-দের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও-র বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে, শুনানিতে উপস্থিত এক ভোটারের ক্ষেত্রে যাচাই করা নথি হিসেবে পাসপোর্টের উল্লেখ করা হলেও, আপলোড করা হয়েছে আধার কার্ড ও প্যান কার্ডের ছবি। অথচ পাসপোর্টের কোনও ছবি আপলোড করা হয়নি। অভিযোগ, ওই ভোটারের আলাদা করে ছবি তোলার বিষয়টিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের দাবি, এই ধরনের ভুল নিছক অসাবধানতা নয়। তাঁদের মতে, ইচ্ছাকৃত ভাবেই ভুল নথি আপলোড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে কমিশনের নজরদারি যে আরও কড়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট।