মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণার সম্ভাবনা। তার আগে এত কম সময়ের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি, ফর্ম ফিলআপ— বাস্তবে অসম্ভব।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 10 November 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরের প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই ফের কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটবন্দি প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষের সুরে বললেন, “নোটবন্দির মতো এসআইআরও গায়ের জোরে পগার পার করবে ভাবছে। কিন্তু পগার পার ওদের হতে হবে। বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।”
তারপরই নাটকীয় ভঙ্গিতে সোজাসুজি নির্বাচন কমিশনের সিইও-র উদ্দেশে মন্তব্য— “হ্যালো স্যার, ক্যান ইউ হিয়ার মি?” কিছুক্ষণ বিরতির পর যোগ করলেন, “আমার মনে হয় এসআইআর স্টে করা উচিত। কোটি কোটি মানুষ এখনও ফর্মই পায়নি।”
কেন এই দাবি? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণার সম্ভাবনা। তার আগে এত কম সময়ের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি, ফর্ম ফিলআপ— বাস্তবে অসম্ভব।
অভিযোগ, “এই তিন মাস যাতে রাজ্য কোনও কাজ করতে না পারে, তাই সুপার এমার্জেন্সির মতো অবস্থা তৈরি করে অফিসারদের আটকে রেখেছে। টিচারদের স্কুল করতে হচ্ছে, আবার বিএলও-দের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ২ ঘণ্টায় কত বাড়ি যেতে পারবে?”
কেন্দ্রকে বিঁধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। মানুষের হৃদয় কাঁদছে, আর বিজেপি হাসছে। কিন্তু জেনুইন ভোটারের নাম বাদ গেলে ছেড়ে কথা বলব না। যত আঘাত করবে, তত প্রত্যাঘাত হবেই।”
এদিন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছে, এসআইআর ঘোষণার পর নিউটাউনের কয়েকটি বস্তি খালি হচ্ছে, যেখানে রোহিঙ্গারা থাকত বলে অভিযোগ। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “রোহিঙ্গারা এল কোথা থেকে? বর্ডার কার দায়িত্বে?” বিজেপিকে 'দু-মুখো সাপ' বলে কটাক্ষ করে বলেন, “একবার বলছে ২০০২ সালের লিস্ট, আবার বলছে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যারা এসেছে, তাদের বাদ দেওয়া হবে না।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ ও বিজেপির ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ— “বিএসএফ আর বিজেপি একসঙ্গে ক্যাম্প করে ২০২৪ সালের লোকেদের নাম তুলছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ফের আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মশিবির পাল্টা কী বলে।