ভোটার তালিকায় অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর করার জন্য বছরের শুরুতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর (FIR) করার জন্য বছরের শুরুতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট চার আধিকারিক ও কর্মীর পাশে দাঁড়াল নবান্ন (Nabanna)। ওই পাঁচ আধিকারিককে যাতে 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' না দেওয়া হয় সেজন্য নবান্নের তরফে কমিশনের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের দাবি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লেখা হয়েছে তার সারাংশ হল: 'এ ব্যাপারে আমরা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের থেকে মতামত নিয়েছি। তিনি বলেছেন, ওই আধিকারিকরা যে ভুল করেছিলেন, তার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার রাজ্য নিয়েছে, তারপরও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা মানে ছোট অপরাধে বড় শাস্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা আবার আর্জি জানাচ্ছি, ওই এফআইআরের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হোক।'
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত বছর ৫ অগস্ট ওই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। পরদিনই ঝাড়গ্রামের সভায় দাঁড়িয়ে কমিশনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,“ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছ? ক্ষমতা দেখাচ্ছ? কার ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ করছ? অমিত শাহর দালালি করছ?” শুধু তা নয়, মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছিলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের প্রটেক্ট করার দায়িত্ব আমাদের। ওরা কিছু করতে পারবে না”।
এর পরই শুরু হয়ে যায় টানাপড়েন। নবান্ন কমিশনের সুপারিশ না মানায় রাজ্যের সচিবালয়কে ফের চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। নবান্ন তখনও কমিশনের সুপারিশ মানতে চায়নি। কাউকে সাসপেন্ড না করে স্রেফ এক সহকারী ইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ভোটের কাজ থেকে সরিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে এর আগে নবান্ন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছিল, আপাতত তারা চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এফআইআর যদি করতেই হয় তার জন্য আরেকটু সময় দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এএফআইআর করেনি। তাই আর অপেক্ষা না করে সম্প্রতি সরাসরি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এরপরই এফআইআর এর নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে নবান্ন। এখন দেখার এ ব্যাপারে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।