সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল, তারই নির্যাস হিসেবে সামনে এল এক অভিনব পদ্ধতি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 February 2026 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা তথ্য সংশোধনে কোনও কারচুপি হচ্ছে না তো? রাজনৈতিক টানাপড়েন আর তথ্যগত অসংগতির (Logical Discrepancies) জট কাটাতে এ বার সক্রিয় বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল, তারই নির্যাস হিসেবে সামনে এল এক অভিনব পদ্ধতি।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটারদের দেওয়া নথিপত্র এবং আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখে এবার চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন বিচারকেরাই (Judges)। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পোর্টাল।
বিচারকদের জন্য ডিজিটাল কবচ
সিইও (CEO) দফতর সূত্রের খবর, বিচারকদের নামের তালিকা হাতে পাওয়ার পরেই ওই পোর্টালে প্রতিটি বিচারক পিছু আলাদা আলাদা ‘লগ-ইন আইডি’ তৈরি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক প্রবেশের ব্যবস্থা থাকছে। পোর্টালে ঢোকার পর সংশ্লিষ্ট বিচারক কোন বিধানসভা এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন, তা বেছে নিতে হবে। সেখানে বুথ ভিত্তিক ‘পার্ট নম্বর’ সিলেক্ট করলেই ভেসে উঠবে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ভোটারদের নামের তালিকা ও ক্রমিক সংখ্যা।
পোর্টালে কী কী দেখা যাবে?
তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি নামের পাশে থাকবে দু’টি বিশেষ বিকল্প:
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ
উভয় পক্ষের তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পর বিচারক নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন। এখানেও থাকবে দু’টি পথ— ‘রিজেক্ট’ (বাতিল) অথবা ‘একসেপ্ট’ (গ্রহণ)। তবে নিছক বোতাম টেপাতেই কাজ শেষ হবে না। বিচারককে ‘কমেন্ট’ বক্সে লিখে জানাতে হবে তাঁর সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ। অর্থাৎ, কেন তিনি আবেদনটি গ্রহণ করলেন বা কেনই বা বাতিল করলেন, তার আইনি ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ওই পোর্টালেই নথিভুক্ত করতে হবে।
প্রসাশনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে অতীতে যে সব বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি তা অনেকটাই প্রশমিত করবে। মূলত নথিপত্রের অসংগতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিচারকদের এই সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে।