পোয়াতুর কুঠি সহ একাধিক প্রাক্তন ছিট মহলের বাসিন্দারা বিএলওদের দেওয়া এসআইআর ফর্ম নিতে চাননি। তাঁদের দাবি, ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য চাওয়া হয়েছে, অথচ তারা ২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

শেষ আপডেট: 5 November 2025 14:11
কোচবিহার, রিয়া দাস: এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই জটিলতা দেখা দিল সাবেক ছিটমহল এলাকায়। পোয়াতুর কুঠি সহ একাধিক প্রাক্তন ছিট মহলের বাসিন্দারা বিএলওদের দেওয়া এসআইআর ফর্ম নিতে চাননি। তাঁদের দাবি, ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য চাওয়া হয়েছে, অথচ তারা ২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার চেষ্টা করলেও বাসিন্দারা তা ফেরত দিয়ে দেন। তাঁদের যুক্তি, ২০০২ সালে তাঁরা তখন বাংলাদেশি ছিট মহলের নাগরিক ছিলেন। ফলে সেই সময়ের তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। পোয়াতুর কুঠির বাসিন্দা জিনাত আলি বলেন, “ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমি তো ২০১৫ সালে ভারতের নাগরিক হয়েছি, তার আগে ছিট মহলের মানুষ ছিলাম। তাই ফাঁকা ফর্ম জমা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” একই এলাকার সাহেব আলি জানান, “আমরা দু'দিন অপেক্ষা করব। যদি নির্বাচন কমিশন ছিটমহলবাসীদের জন্য বিশেষ নিয়ম ঘোষণা না করে, তাহলে জেলাশাসকের অফিস ঘেরাও করব।”
করলা ছিটমহলের বাসিন্দা রহমত আলি বলেন, “ভারত সরকার ২০১৫ সালের পয়লা অগস্ট নাগরিকত্ব দিয়েছে। ২০১৬ সালে ভোটার কার্ডও পেয়েছি। কিন্তু এসআইআর ফর্মে যে সব নথি চাওয়া হচ্ছে, তার কোনওটাই আমাদের কাছে নেই। আমাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে।” পোয়াতুর কুঠির বিএলও বিপুল মোদক বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি ফর্ম দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছিটমহলবাসীরা ফর্ম নিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৫ সালের পয়লা অগস্ট ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয়। এতে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয় ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল। একইসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নোটিফিকেশন জারি করে নব সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করে। সেই ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ভোটার কার্ড দেওয়া হয়েছিল। এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় সেই নাগরিকদের নতুন করে নথি চাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যার জেরে শুরুতেই প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হল সাবেক ছিটমহল এলাকায়।