“এসআইআর যাই হোক না কেন, বাংলার মানুষ মমতার পাশে আছে। ২৫০-র বেশি আসনে জিতে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন দিদি।”-কুণাল।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 October 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-কে (SIR West Bengal) কেন্দ্র করে ফের চড়ছে রাজনৈতিক তাপমাত্রা। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার আগেই কড়া হুঁশিয়ারি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। সোমবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল স্পষ্ট বলেন, “এসআইআরের নামে একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আমরা চুপ থাকব না। অকারণে কাউকে হয়রানি করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলে এক লক্ষ কর্মী নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দফতর ঘেরাও করব।”
একইসঙ্গে বিজেপির উদ্দেশে কুণালের কটাক্ষ, “এসআইআরকে কেন্দ্র করে ওরা প্ররোচনা ছড়াতে চাইবে। বাংলার মানুষকে বলব, প্ররোচনায় পা দেবেন না। তৃণমূল কোনওভাবেই হিংসাকে সমর্থন করে না।”
এদিনই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেন, মঙ্গলবার থেকে বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা থেকে কুণালের পাল্টা বার্তা— “স্বচ্ছ, নির্ভুল ভোটার তালিকার দাবিটা প্রথম করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ফলে কমিশনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে প্রতিবাদ হবেই।”
তৃণমূল মুখপাত্রের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করার চেষ্টা করছে। কুণালের দাবি, “কয়েক মাস আগেই অন্য রাজ্যের ভুয়ো ভোটারদের নাম কপি পেস্ট করে বাংলার তালিকায় ঢোকানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদের জোরেই তা বন্ধ হয়েছে।”
তাঁর আরও বক্তব্য, “বিজেপি নেতারা বলছে—এসআইআরে নাম বাদ গেলে ক্যাম্প করে সিএএ-তে ঢোকাব। এরা এমন কথা বলে কী করে! কেন নাম বাদ যাবে?”
একইসঙ্গে কুণাল তুলে আনেন ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকার প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, “হাইকোর্টের নির্দেশের পরও কেন্দ্র ১০০ দিনের টাকা আটকে রেখেছে। আজ সুপ্রিম কোর্টও ওদের বলেছে, টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ আমরা আইনসম্মত পথেই লড়ব।”
শেষে সতর্কবার্তা, “কর্মীদের বলব, মাথা গরম করে বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না। বিজেপির প্ররোচনায় হিংসা হলে তার সুবিধা ওরাই নেবে।”
কুণালের জোর দাবি—২০২৬-এর ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফের হবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এসআইআর যাই হোক না কেন, বাংলার মানুষ মমতার পাশে আছে। ২৫০-র বেশি আসনে জিতে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন দিদি।”