কেন ফ্রিজ করা হয় পুরনো তালিকা?

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 October 2025 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট (Assembly Election)। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিহারের পর এবার বাংলা (West Bengal)-সহ ১২ রাজ্যে শুরু হচ্ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া-ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR)। সেই সূত্রেই সোমবার রাত ১২টা বাজতেই ‘ফ্রিজ’ (Friz) হয়ে যাবে পুরনো ভোটার তালিকা (Old voter list )। অর্থাৎ রাত ১২টার পর থেকে আর কেউ পুরনো তালিকায় কোনও পরিবর্তন আনতে পারবেন না।
সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার জানান, মঙ্গলবার থেকেই সারা দেশে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ। এই সময়ের মধ্যেই নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নাম, ঠিকানা, বয়স, লিঙ্গ ইত্যাদি তথ্যের সংশোধন করা যাবে।
জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরনো তালিকা সোমবার রাত ১২টা থেকেই স্থগিত বা ফ্রিজ করা হচ্ছে, যাতে আগামী সংশোধন পর্যায়ে নতুন তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা যায়।”
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া কবে থেকে কবে পর্যন্ত?
কমিশন জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হয়ে চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জানানো যাবে। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এই সময়ে ভোটাররা ফর্ম ৬, ৭, ৮ ও ৮এ পূরণ করে নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। শহরের ক্ষেত্রে আবেদন অনলাইনেও করা যাবে। বাকিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বুথ অফিসার (BLO)-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
কেন ফ্রিজ করা হয় পুরনো তালিকা?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে বর্তমান ভোটার তালিকাকে ‘ফ্রিজ’ করা হয়, যাতে কোনও পুরনো তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রকাশ করা হয় প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
জ্ঞানেশ কুমারের বার্তা, “যাঁদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১৮ বা তার বেশি হবে, তাঁরা সবাই যেন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের শক্তি।”