SIR চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র উদ্বেগ। ‘ডিলিটেড’ ও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ চিহ্নের অর্থ কী? নাম না থাকলে কী করবেন জানুন বিস্তারিত।

ছবি-দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 February 2026 08:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই আজ, শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) পরবর্তী বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, দুপুরের মধ্যেই তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। ভোটাররা অনলাইন ও অফলাইন—দু’ভাবেই এই তালিকা দেখতে পারবেন।
খসড়া তালিকায় থাকা প্রায় ৭ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের পাশাপাশি ফর্ম–৬ পূরণ করে নতুন করে নাম তোলার আবেদনকারীদের নামও চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে যাঁরা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি, তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ চিহ্ন থাকবে। একইভাবে ফর্ম–৭-এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ করা হবে।
খসড়া তালিকাভুক্ত মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ মানুষকে ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত কারণে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘ডিসপিউটেড’ বা বিতর্কিত ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর নির্ভর করছে। আজকের তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা থাকবে। বাকি প্রায় ৯০ লক্ষের মধ্যে যাঁরা শুনানির পরে বৈধ নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের নাম তালিকায় থাকবে। অন্যদের ক্ষেত্রে ‘ডিলিটেড’ চিহ্ন বসানো হবে।
কাদের নাম থাকবে আর কারা বাদ পড়বেন, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বহু ভোটার। প্রশাসন আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের মতো মতুয়া অধ্যুষিত জেলাগুলিতে দুশ্চিন্তা বেশি। বনগাঁর মতুয়া গড়ে বেনাগরিক হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মমতাবালা ঠাকুরের কাছে অনেকেই তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর মতুয়া গড়ে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন, যার মধ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার। কিন্তু শুনানিতে অংশ নেন ৬০ হাজারের কিছু বেশি মানুষ। ফলে বনগাঁর চারটি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করে স্যাপ, র্যাফ-সহ বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটেলিয়নের আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইন–শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলের নির্দেশে বলা হয়েছে, সামনে দোল ও হোলির মতো উৎসব এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ—দু’টিকেই মাথায় রেখে বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। নবান্নে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমও খোলা হচ্ছে।
কোথায় মিলবে তালিকা?
নির্বাচন কমিশন ও সিইও-র ওয়েবসাইটে ভোটাররা নিজেদের নাম ও এপিক নম্বর দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করতে পারবেন। পাশাপাশি সমস্ত বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-দের কাছে তালিকার হার্ড কপি থাকবে। ভোটাররা স্থানীয় বিএলও-র কাছে গিয়ে নাম যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পেন ড্রাইভে তালিকা দেওয়া হবে। জেলা শাসক, এসডিও ও বিডিও অফিসেও তালিকা টাঙানো থাকবে। তবে প্রথমে অনলাইনেই তালিকা প্রকাশিত হবে।
‘ডিলিটেড’ হলে কী করবেন?
যাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা থাকবে, তাঁরা যদি শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে থাকেন, তবে আগামী ৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-এর কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। সেখানে ৫ দিনের মধ্যেও নিষ্পত্তি না হলে বা আবেদন খারিজ হলে, পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে সিইও-র কাছে আবেদন করা যাবে। তবে সেখানেও আবেদন বাতিল হলে, এ বারের নির্বাচনে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে না।
তবে ভবিষ্যতে ফর্ম–৬ পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানানো যাবে। ‘ডিসপিউটেড’ ভোটারদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল অফিসাররা।