গত বছরের অগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে সাসপেন্ড করা হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছিল না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের (ECI) চাপের মুখে অবশেষে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করল রাজ্য (FIR State Govt)। দুই জেলার চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার দুই ইআরও (ERO) এবং দুই এইআরও-র (AERO) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, কাজে গাফিলতির জন্য একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআর করা হয়েছে।
গত বছরের অগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে সাসপেন্ড করা হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছিল না। এই নিয়ে একাধিকবার নবান্নকে (Nabanna) সতর্ক করেছিল কমিশন। তবু নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল।
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) দিল্লিতে তলবও করেছিল কমিশন। স্পষ্ট বলা হয়েছিল, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। দেখা গেল, ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুহূর্তেই নবান্নর তরফে এফআইআর দায়ের করা হল।
উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের অনুমতি ছাড়াই ‘সার’ চলাকালীন তিনি ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হলেও, সেই নির্দেশও এখনও কার্যকর হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
ইতিমধ্যে আবার ৭ জন AERO-র সাসপেনশন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) বলেন, “লাগামছাড়া ক্ষমতা কাউকেই দেওয়া হয়নি। AERO-দের সাসপেন্ড করা হয়েছে আইন মেনেই। ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এটা করা হয়েছে। এতে সব রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন চুক্তিবদ্ধ। যা হয়েছে, আইন মেনেই হয়েছে।”
তিনি জানান, যে ৭ জন AERO-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা এসআইআর গাইডলাইন (SIR Guildline) লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর সঙ্গে পরামর্শ করেই একমাত্র রাজ্য সরকার এই ৭ জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার (revoke) করতে পারে। অন্য কোনও পদ্ধতি নেই।