কমিশন সূত্রে খবর, তালিকাটি অসম্পূর্ণ। সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগ বা গ্রেড উল্লেখ না থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এই তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তাই অসঙ্গতির বিষয়টি যথাসময়ে আদালতের নজরে আনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 14 February 2026 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (West Bengal SIR) সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন জট। রাজ্য সরকারের পাঠানো ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ অফিসারের (Group B Officers) তালিকা নবান্নে ফিরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের (ECI) দাবি, পাঠানো তালিকা দেখে বোঝার উপায় নেই কে কোন গ্রেডের অফিসার, কার ডেজিগনেশন কী, কিংবা কতজন এইআরও পদে রয়েছেন। বিস্তারিত তথ্য-সহ নতুন করে তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, তালিকাটি অসম্পূর্ণ। সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগ বা গ্রেড উল্লেখ না থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এই তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তাই অসঙ্গতির বিষয়টি যথাসময়ে আদালতের নজরে আনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) এসআইআর মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে উপস্থিত ছিলেন। সে দিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা অভিযোগ তোলেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য আধিকারিক দেওয়া হয়নি। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে স্পষ্ট জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য কর্মী দিতে রাজ্য প্রস্তুত।
এর পর ৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার ঘোষণা করে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ অফিসার দেওয়া হবে। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে রাজ্যের তরফে স্বীকার করা হয়, ওই সম্পূর্ণ তালিকা আগে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়, কমিশনের সম্মতির অপেক্ষায় ছিল সরকার। শেষ পর্যন্ত আদালতেই তালিকা কমিশনের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষিতেই কমিশনের আপত্তি। তাদের বক্তব্য, তালিকায় গ্রেড, পদমর্যাদা এবং দায়িত্বের স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে কোন আধিকারিক কোন স্তরের, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। সবিস্তারে তথ্য না থাকলে তালিকা গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে নবান্ন। তাদের দাবি, গ্রুপ ‘বি’ অফিসারদের ডেটাবেস বিকৃতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তালিকা সম্পূর্ণভাবে অর্থ দফতরের ৬ অক্টোবর ২০২০-র স্মারকলিপি (নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি) অনুযায়ী প্রস্তুত। ওই স্মারকলিপিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’—এই চার ভাগে শ্রেণিবিভাগের মানদণ্ড নির্দিষ্ট করা আছে। সেই নির্ধারিত বেতনস্তর মেনেই গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রক্রিয়ায় কোনও বিচ্যুতি হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম বা হেরফেরের যে অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নবান্নের মতে, ৯ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই অপপ্রচার চলছে।
সব মিলিয়ে, এসআইআর ঘিরে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের টানাপড়েন আরও তীব্র হল। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে—অসঙ্গতির বিষয়টি আদালতে উঠলে কী নির্দেশ আসে, সেটাই দেখার।