এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কাদের কার্ড, কেনই বা তা মাটির নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল?
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক, ঠিক সেই সময়েই হুগলির চণ্ডীতলায় (BDO Office, Chanditala) চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চন্ডীতলা–২ ব্লকের বিডিও অফিসের সামনে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার কার্ড (Voter Cards)। হঠাৎ এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কাদের কার্ড, কেনই বা তা মাটির নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল?
খবর ছড়াতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এসআইআর চলাকালীন এমন ঘটনার জেরে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে এই বিতর্কে অন্য যুক্তি দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।
বিডিও অফিস সূত্রে দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব ভোটার কার্ডই বাতিল। যাঁরা মারা গিয়েছেন বা যাঁদের ডিজিটাল ভোটার কার্ড হয়ে গিয়েছে, তাঁদের পুরনো এপিক কার্ড বাতিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সব কার্ডই মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে দাবি প্রশাসনের।
চণ্ডীতলা–২ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ প্রবীণ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘বিডিও অফিসের পিছনের দিকে যে ইপিক কার্ডগুলো পাওয়া গিয়েছে, সবই বাতিল কার্ড। যাঁদের ডিজিটাল কার্ড হয়ে গিয়েছে, তাঁরা জমা দিয়ে গিয়েছেন। আবার যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের কার্ডও জমা পড়েছিল। সেগুলো আমরা মাটিতে পুঁতে দিয়েছিলাম। জায়গাটা অসমান ছিল। এখন এসআইআর-এর শুনানি চলছে, তাই কার্ডগুলো উপরে উঠে এসেছে।’’
তাঁর আরও দাবি, "এই ঘটনায় কোনও অনিয়ম বা সমস্যা নেই। এতে কারও কোনও অসুবিধা হবে না।’’
তবে প্রশ্ন উঠেছে, বাতিল ভোটার কার্ড পুড়িয়ে ফেলা হল না কেন? এই প্রসঙ্গে প্রবীণ ঘোষের ব্যাখ্যা, ‘‘কার্ডে অশোক স্তম্ভ রয়েছে। তাই ওই কার্ড পোড়ানো যায় না। সেই কারণেই পুঁতে রাখা হয়েছিল।’’
যদিও প্রশাসনের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, এসআইআর চলাকালীন এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে চন্ডীতলার মাটি খুঁড়ে ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।