
শেষ আপডেট: 10 October 2024 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সিঙ্গুরের সেই জমিতে ভরে রয়েছে কাশফুলে। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানা স্বপ্ন নিয়ে রাজ্যে এসেছিলেন রতন টাটা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। বহু বছর পরে রাজ্যে শিল্প ক্ষেত্রে বড়সড় বিনিয়োগ হতে চলেছিল। কিন্তু অন্তরায় হয়ে ওঠে জমিজট। বিরোধী আসনে তখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোর করে ফসলি জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে ২০০৮ সাল। চতুর্থীর দিন সিঙ্গুর ছাড়ার কথা ঘোষনা করেন রতন টাটা। ১৬ বছর পর আরেক পুজোয় ষষ্ঠীর দিনে প্রয়াত হলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান।
রতন টাটার প্রয়ানে কারখানা শুরু ক্ষীণ সম্ভবনা টুকু রইল না। এই পরিস্থিতি সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আহ্বায়ক বেচারাম মান্না বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুতে থাকলেও টাটা নিয়ে তাঁদের গলায় শোনা গেল এক সুর। তাঁদের দাবি, "সিঙ্গুরের আন্দোলন টাটার বিরুদ্ধে ছিল না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের পুলিশি অত্যাচার ও জোর করে জমি কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ছিল এই আন্দোলন।"
এখন তৃণমূল জামানায় বেচারাম মান্না মন্ত্রী পদে রয়েছেন। সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, "রতন টাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল না। বামফ্রন্ট সরকারে দমনপীড়ন নীতির বিরুদ্ধে ছিল। রতন টাটার প্রয়ান নিশ্চিত ভাবে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। " তার কথায়, "রাজ্যপাল গোপাল কৃষ্ণ গান্ধীর টেবিলে যে চুক্তি হয়েছিল, তা মানেনি বাম সরকার। মানুষ বুঝে গেছে ওরা শিল্প চায় না শুধু রাজনীতি করার জন্য এসেছে।"
এক বক্তব্য রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যেরও। তিনি বলেন, " আগেই বলেছে আমাদের আন্দোলন ল রতন টাটাজির বিরুদ্ধে ছিল না। আমাদের বিরোধ ছিল সরকারের সঙ্গে। কৃষকদের উপর পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে। "
ষোলো বছরে অনেকটাই বদলেছে সিঙ্গুর। তবে সিঙ্গুরের ৯৯৭ একর জমির ভবিষ্যত বদলায়নি। অধিকাংশ জমি খালি হয়ে পড়ে রয়েছে। সেখানে না হয়েছে চাষবাস, না শিল্প। সিঙ্গুরে কৃষি জমি রক্ষা কমিটি এখন অতীত। শিল্প করার দাবিতে সই সংগ্রহ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে নতুন কমিটি।
সিঙ্গুর সিপিএম নেতৃত্ব হুগলি জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে এতে ক্ষতি শুধু সিঙ্গুরবাসীর হয়নি। ক্ষতি হয়েছে বর্তমান তৃণমূল সরকারের। যখন তাঁদের দল বিরোধী ছিল ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করেছে। সেদিন শিল্প চেয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। তা হয়নি। তাই এখন তার ফল ভোগ করছে রাজ্যবাসী। সেদিন শিল্প হলে আজকের শাসক লাভবান হতো। কর্মসংস্থান বাড়ত। কোষাগারে টাকা বৃদ্ধি হত। গোটা রাজ্যের মানচিত্র টাই বদলে যেত। মানুষকে বিভ্রান্ত করে হয়তো তাঁরা সরকারে আসতে পেরেছে কিন্তু গোটা রাজ্যের অর্থনীতি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান শিল্পে বিনিয়োগের প্রশ্নে বিফল হয়েছে। ইচ্ছুক অনিচ্ছুকের ভাগ এখনও রয়ে গেছে। যারা স্বেচ্ছায় জমিয়ে দিয়েছিলেন কারখানা গড়তে এমন একজন অসিত জ্যোতি। তিনি মনে করেন ন্যানো বিদায় তাঁদের কাছে লক্ষ্মী বিদায়ের সমান।রতন টাটার মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত।
অনিচ্ছুক চাষি অমিও ধারা বলেন,"আমাদের আন্দোলন রতন টাটার বিরুদ্ধে ছিল না।তিন ফসলি জমি নেওয়ার বিরুদ্ধে ছিল। চাষি দাবীিমেনে নিলে কারখানা হত আমরা শিল্পের বিরোধীও ছিলাম না।"