
শেষ আপডেট: 25 August 2020 18:30
যেমন লক্ষ্য, তেমনি কাজ। লখনৌ আইআইএম থেকে পাশ করা এমবিএ-র ছাত্র হয়ে ওঠেন একজন জাঁদরেল পুলিশ অফিসার। ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার তাঁর আট বছরের সার্ভিস জীবনে সিংহের মতোই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন অপরাধীদের ধরতে। যেখানেই অন্যায় আর অবিচারের ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই পৌঁছে গেছেন আন্নামালাই। ঠিক যেন বলিউড সিনেমা ‘সিঙ্ঘম’-এর অজয় দেবগণের মতো। রিল লাইফে অজয় দেবগণ যেমনভাবে এক সৎ পুলিশ অফিসার হয়ে অপরাধীদের শাস্তি দিতেন, আন্নামালাই ঠিক সেভাবেই অপরাধ দমন করতেন। বাস্তবে, সাহসের সঙ্গে। তাই তাঁর নতুন পরিচয়ও হয় ‘সিঙ্ঘম আন্না’। সিঙ্ঘম মানে সিংহ আর আন্না মানে হল দাদা বা আপনজন। আন্নামালাই হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের অতি কাছের, ভরসার একজন।
গুটখা বিক্রি় বা মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রচার হোক, বা ধর্ষিতা নারী ও তাঁর পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যবহার - আন্নামালাইয়ের কাজ গণমাধ্যমে বারবার প্রশংসিত হয়েছে। সমাজের মানুষের কাছে পুলিশ হিসাবে নিজের একটি দৃঢ় ভাবমূর্তি তিনি গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। সেই পুঁজিকে কাজে লাগিয়েই এবার রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করতে চলেছেন আন্নামালাই।
২০১১ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন আন্নামালাই। কর্ণাটকের কারকালায়় সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে তার প্রথম পোস্টিং হয়। এখানেই তিনি প্রথম মাদকের অপব্যবহার এবং তামাক বিক্রির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। স্থানীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি অবৈধ মদের দোকানও বন্ধ করে দেন। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কলেজগুলিতে তিনি একাধিক সেমিনার করেন এবং প্রতিটি কলেজে কমপ্লেন বক্স বসান। এই কমপ্লেন-বক্সে শিক্ষার্থীরা নানারকম অবৈধ কার্যকলাপ সম্পর্কে বেনামে অভিযোগ জানাতে পারতেন।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি উদুপি জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) পদে নিযুক্ত ছিলেন। এই সময় তিনি প্রথমবার একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছিলেন। ১৭ বছরের এক ছাত্রীকে কিছু লোক ধর্ষণ করে হত্যা করে। এই ঘটনার তদন্ত করছিলেন তিনি। কিশোরীর শোকগ্রস্থ মা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি তার মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন কিনা!
মেয়েটির মাকে তিনি কথা দিয়েছিলেন শুধু দোষীদের শাস্তি দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হবেন না, মৃত ছাত্রীটির স্মৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। শোনা যায়, তাঁরই উদ্যোগে এই ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই অপরাধীরা ধরা পড়ে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেয়েটির নামে দশহাজার টাকার একটি বৃত্তিও চালু করেন 'সিংহম আন্না'।
উদুপিতে পোস্টেড থাকাকালীন তিনি সেখানেও অবৈধভাবে বিড়ি, সিগারেট, গুটখার বিক্রি একেবারে বন্ধ করে দিতে তৎপর হয়েছিলেন। লুকিয়ে এসব জিনিস বিক্রি করার জন্য একটি দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে তিনি ৩০,০০০ টাকা জরিমানাও করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে সেসব ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার।
উদুপির পাশেই উত্তর কন্নড় জেলার ভাটকল ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী এবং ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের আঁতুড়ঘর। এইসময় জিহাদি কার্যকলাপকে খুব সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান তিনি। এই উদুপিতে থাকার সময়ই ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন আন্নামলাই। তাঁর মনে হয়েছিল ধর্মগ্রন্থের ভুল ব্যাখ্যাকে হাতিয়ার করেই এইসব জেহাদি কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে দেশে। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা থামাতে গেলে সবার আগে দরকার ধর্মগ্রন্থগুলোকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা। তিনি বলেন, “আমি ধর্মীয় আলেমদের সহায়তায় কোরান ও হাদিস অধ্যয়ণ করেছি। ইসলাম ধর্মের মূল দর্শন বোঝার চেষ্টা করেছি। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, সিমি এবং আইসিসের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পিছনে যে মানসিকতা বুঝতে গেলে ইসলাম ধর্মকে ভালোভাবে বোঝা দরকার।"
তাঁর পরবর্তী পোস্টিং হয় চিক্কামগলুরুতে। ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন, তারপর অবসর গ্রহণ করেন। তিনি দলের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হবেন কি না, বা দলের মধ্যে একইরকম অন্য কোনও দায়িত্ব পালন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আন্নামালাই সাংবাদিকদের জানান যে তিনি বিজেপিকে অনুগত সেনা হিসাবে যোগ দিয়েছেন এবং তামিলনাড়ুতে দলের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রচার ও প্রসারে কাজ করতে আগ্রহী।
মঙ্গলবার দলে যোগ দেওয়ার পরে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি মোদীকে একজন সত্যিকার নেতা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।