হোটেল মালিকদের এই উদ্যোগ মূলত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা, পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা রক্ষা করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ির হোটেলে নিষিদ্ধ বাংলাদেশি
শেষ আপডেট: 31 December 2025 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের উদযাপন ঘিরে শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে (Siliguri hotel ban for Bangladesh's citizen)। পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটনের শহর শিলিগুড়িতে হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা এবার কোনও হোটেলে থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় আনা হয়েছে।
গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগের বছরে কিছু বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেই ছাড় বাতিল করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, “গত বছর ডিসেম্বর থেকেই আমরা এই নীতি প্রয়োগ শুরু করেছিলাম। এ বছর কিছুটা শিথিলতা ছিল, কিন্তু এখন তা প্রত্যাহার করা হয়েছে (New Year hotel restrictions)। ফলে এবার কোনও বাংলাদেশি নাগরিক শিলিগুড়ির কোনো হোটেলে থাকতে পারবেন না।”
এটি কেবল সাধারণ পর্যটক বা অতিথিদের জন্য নয়; এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বাংলাদেশ থেকে ভিসার মাধ্যমে আসা শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা নাগরিকদের ক্ষেত্রেও। উজ্জ্বল ঘোষ আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বারবার ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশিত মন্তব্য ও কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেন, “প্রথমে দেশ, তারপর ব্যবসা। ব্যবসার স্বার্থে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে দেওয়া যাবে না।”
শিলিগুড়ি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডর নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মন্তব্যের জেরেই এই নীতি কঠোর করা হয়েছে বলে খবর। "নির্বাচনী উদ্দেশ্যে এই ধরনের বক্তব্য এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় (India Bangladesh tensions)," অভিযোগ উজ্জ্বল ঘোষের।
হোটেল মালিকদের এই উদ্যোগ মূলত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা, পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা রক্ষা করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। নতুন বছরের আগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হওয়ায় শহরের হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটক ও অতিথিদের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
গত বছরের জুলাই থেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে অগস্টের শুরতেই দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আসেন মহম্মদ ইউনুস। মূলত তারপর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসেই ভারত বিরোধী ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় ফের উত্তাল হয় ওপার বাংলা। সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দীপু দাসকে পুড়িয়ে-পিটিয়ে খুন, অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন- এখনও পর্যন্ত তিনজন হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বাংলাদেশে। যদিও এই ঘটনাগুলি জাতিবিদ্বেষের কারণে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের একাধিক ছাত্রনেতা-নেতার মুখে ভারতের বিরুদ্ধে 'কুমন্তব্য' শোনা গেছে, সেই ভিডিওগুলি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)। এই নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে।