বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ভারত সরকারের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অভিযোগ নস্যাৎ করল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।

নরেন্দ্র মোদী ও মহম্মদ ইউনুস
শেষ আপডেট: 28 December 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ভারত সরকারের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অভিযোগ নস্যাৎ করল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের দু'জন হিন্দু যুবককে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করেছে সে দেশের উগ্রবাদী জনতা। ওই ঘটনা দুটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নয়া দিল্লির তরফে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকারের তরফে এই ব্যাপারে মুখ খোলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
এই বিষয়ে রবিবার প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এমন কোনও ভুল, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধমূলক ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেগুলিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দিতে অপব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা কিছু মহলে একটি বাছাইকৃত ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করছি, যেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলিকে অতিরঞ্জিত, বিকৃতভাবে উপস্থাপন ও প্রচার করে সাধারণ ভারতীয় জনগণের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারতের বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার বিবৃতিতে রাজবাড়ীর ঘটনাটি নিয়ে বলা হয়েছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র যে ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী ছিলেন। তাঁর দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু ঘটে যখন তিনি তাঁর এক মুসলিম সহযোগীর সঙ্গে তোলাবাজিতে লিপ্ত ছিলেন। ওই সহযোগীকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অপরাধমূলক ঘটনাকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়, বরং বিভ্রান্তিকর।বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, যা সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার চেতনা ক্ষুণ্ন করে।