বেলডাঙায় পরপর দু’দিন সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন দিলীপ। তাঁর কটাক্ষ, “এই সরকার যেভাবে গুন্ডারাজকে মদত দিয়েছে, তাতে পুলিশ প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা মাটিতে মিশেছে।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 January 2026 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার মালদহ (Maldah), রবিবার সিঙ্গুর (Singur), পর পর দু’দিন বাংলায় এলেও প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) মুখে শিল্প (industry) নিয়ে একটি শব্দও শোনা গেল না। সিঙ্গুরে দাঁড়িয়েও শিল্পের বার্তা নেই কেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে কৌতূহল বাড়াচ্ছে আর এক বিষয়, দু’দিনের জনসভায় আইপ্যাক বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতি (Corruption, West Bengal) প্রসঙ্গেও কেন নীরবতা?
এই প্রশ্নের জবাবে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) পাল্টা কটাক্ষ, “যেখানে সিবিআই তদন্ত চলছে, ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আর কী বলতে হবে? বাংলার মানুষ কি অন্ধ নাকি!”
দিলীপের দাবি, শিল্প আসার আগে সবচেয়ে জরুরি আইনশৃঙ্খলা। “প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, আগে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে, তবেই শিল্প আসবে। সরকার বদল না হলে শিল্প সম্ভব নয়। এখন শিল্পের বেসিক জায়গা—যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে তুলনা টেনে আনেন ওড়িশার সঙ্গেও। তাঁর বক্তব্য, “ওড়িশায় সরকার বদলের দেড় বছরের মধ্যেই সিস্টেম বদলে গেছে। শিল্পপতিরা এখন বাংলার বদলে ওখানেই যাচ্ছেন। কারণ, সেখানে শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ আর আইনশৃঙ্খলা আছে।”
মোদীর দু’দিনের কোনও সভাতেই দেখা যায়নি দিলীপ ঘোষকে। এ নিয়ে আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, দল যেখানে দায়িত্ব দেয়, সেখানেই তিনি থাকেন। রবিবার তাঁর ব্যাখ্যা, “এয়ারপোর্টে ছিলাম মোদীজিকে সি-অফ করতে।”
মোদী বলছেন রাজ্য সরকার বদলাতে হবে, আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন বিজেপি বদলাবে, এই দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে দিলীপের স্পষ্ট কথা, “তৃণমূল নিজেরা বদলাতে পারবে না। ওদের সেই ক্ষমতাই নেই। তাই সাধারণ মানুষই এবার সরকার বদলাবে।”
অভিষেকের ‘সব আসন জয়ের’ দাবিকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ দিলীপ। তাঁর মন্তব্য, “ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকবারই এ কথা বলা হয়। দেখা যাক, এবারের নির্বাচনে কে খেলা খেলবে।”
এরই মধ্যে বেলডাঙায় পরপর দু’দিন সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন দিলীপ। তাঁর কটাক্ষ, “এই সরকার যেভাবে গুন্ডারাজকে মদত দিয়েছে, তাতে পুলিশ প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা মাটিতে মিশেছে।”
পুলিশের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। “প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশকে বাঁচাবে কে? সরকার পাশে নেই, মানুষও পাশে নেই। ওদেরও তো সংসার আছে। এত ঝামেলা হচ্ছে, পুলিশের মুভমেন্ট কোথায়? রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হচ্ছে, অথচ পুলিশ নির্বাক দর্শক। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আইন মানেন না, সাধারণ মানুষ মানবে কেন? আর সব শেষে ঝামেলা হলে লাঠিচার্জ পড়ে সাধারণ মানুষের উপরই।”