
শেষ আপডেট: 7 October 2023 08:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিকিমে বিপর্যয়ের পর জলপাইগুড়ি তিস্তা নদীতে মৃতদেহের ছড়াছড়ি। জলস্তর কমতেই একের পর এক দেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। জেলার তিস্তা পাড়ে থাকা মাল থানা,ময়নাগুড়ি থানা এবং সদর ব্লকের কোতোয়ালি থানা এলাকা মিলিয়ে এই দেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সিকিমে কাজ করতে গিয়ে বাংলারও অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, বালুরঘাটের সাত পরিযায়ী শ্রমিক নিখোঁজ সিকিমে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাতজনই গত শুক্রবার বাড়ি থেকে এক ঠিকাদারের সঙ্গে সিকিমে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্যোগের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবারের। পরে তাঁদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বার বার শ্রমিকদের মোবাইলে ফোন করেও, কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপ্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, জেলার কমপক্ষে ২৫ জন বাসিন্দা সিকিমে নানা কাজে গিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, “জেলার ২৫ জনের খবর পেয়েছি, যাঁরা সিকিমে কাজে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তাঁরা ভাল আছেন। আমরা সিকিম প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।“
বালুরঘাটের ডাঙা পঞ্চায়েতের বিজশ্রী গ্রামের পালপাড়ার দুই বাসিন্দা সিকিমে কাজে গিয়ে নিখোঁজ। কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁদের পরিবারের লোকজন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট ব্লকের ডাঙার পালপাড়ার নিখোঁজ ওই সাত পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম মৃদু পাল, সুধু পাল, দুলাল পাল, বেলাই পাল, সামরা পাল, তজু পাল ও নবীন পাল। গ্রামেরই এক বাসিন্দা বলেছেন, গ্রামের মোট সাতজন এক ঠিকাদারের সঙ্গে সিকিমে কাজে গিয়েছেন। কারোরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
জলপাইগুড়ি জেলাশাসক শামা পারভিন জানিয়েছেন, 'বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৮ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনের নাম পরিচয় জানা গিয়েছে। ৪ জন সেনাবাহিনীর এবং ২ জন পর্যটক। বাকিদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আমরা দেহ মর্গে পাঠিয়েছি।'