দ্য ওয়াল ব্যুরো : নিউ ইয়র্কে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পরেই মেয়র স্থানীয় শিখ ধর্মাবলম্বীদের দ্বারস্থ হন। শহরে যাঁরা নিজেদের বাড়িতে কোয়ারান্টাইনে আছেন, তাঁদের যাতে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা যায়, সেজন্য তিনি শিখ সংগঠনের সাহায্য চান। সেইমতো সোমবার থেকে শিখরা ৩০ হাজার মানুষের উপযোগী খাবার তৈরি করে তুলে দিচ্ছেন সরকারের হাতে। ফেডারেল গভর্নমেন্ট বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটিং এজেন্সির মাধ্যমে সেই খাবার সরবরাহ করছে কোয়ারান্টাইনে থাকা আমেরিকানদের কাছে।
খাবার তৈরি করার সময় শিখ পরিবারগুলিকে ফুড হাইজিনের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হচ্ছে। রান্না করার সময় তাঁদের মুখে থাকছে মাস্ক। হাতে থাকছে গ্লাভস। রান্নাঘরে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের পরস্পরের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে।
আমেরিকান গুরুদোয়ারা প্রবন্ধিক কমিটি (ইস্ট কোস্ট)-এর কো-অর্ডিনেটর হিমন্ত সিং জানিয়েছেন, "শিখ স্বেচ্ছাসেবীরা রান্না করছেন নিরামিষ খাবার। তাতে থাকছে ভাত, শুকনো ফল ও শাকসবজি।" পরে তিনি বলেন, "রবিবার থেকে খাবার তৈরি শুরু হয়েছে। পরে খাবার প্যাকেজিং করা হয়। সোমবার সকাল থেকে প্যাকেটগুলি ডেলিভারি দেওয়া শুরু হয়েছে।" ডেলিভারি দেওয়ার আগে অবশ্য ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেছেন, সেই খাবার নিরাপদ কিনা।
নিউ ইয়র্কে ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। এই পরিস্থিতিতে গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে লক ডাউন ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। সমস্ত ধরনের জমায়েতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। শনিবার থেকে আমেরিকা-মেক্সিকো যাতায়াতেও রাশ টানা হয়েছে।
সিটি পুলিশের তরফে প্রত্যেক নাগরিককে গৃহবন্দি থাকার জন্য নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বেরোনোয় কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্তেও শনিবার থেকে লক ডাউন কার্যকর করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিদেশমন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তারও করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৃহত্তর এলাকায় যাতে মারণ ভাইরাস না ছড়ায় সে জন্যই এই পদক্ষেপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৫৫৭ জন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৩১২ জনের। অর্থাৎ মৃত্যুর পরিমাণ মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশের একটু বেশি। আর এই ভাইরাসের কবল থেকে ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৩৭১ জন। এই পরিমাণ আক্রান্তের হিসেবে ২৭ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ প্রতি চার জন আক্রান্তের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।