শসা, ঝিঙে, করোলা, কড়াই—বিভিন্ন সবজির বীজই এখন শ্যামপুরের কৃষকদের কাছে সোনার খনি। গুপিনগরীর কৃষকরা শুধু নিজেদের জীবিকা বদলাচ্ছেন না, তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্য চাষিদেরও অনুপ্রাণিত করছে।

শেষ আপডেট: 15 September 2025 17:34
“চাষে আর লাভ নেই”—এ কথা এতদিন শোনা যেত শ্যামপুরের কৃষকদের মুখে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সবজি ফলাতেন, কিন্তু বাজারে গেলে মিলত না দাম। কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনও পোকামাকড়ের আক্রমণে ফসল নষ্ট। শেষমেষ যে ফসল বিক্রি করতে পারতেন, তাতেও দাম এত কম যে খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে যেত। ফলে হতাশা, ঋণের বোঝা আর অনিশ্চয়তাই ছিল কৃষকদের নিত্যসঙ্গী।
কিন্তু শ্যামপুরের গুপিনগরী গ্রামে আজ যেন অন্য ছবি। গ্রামের কৃষকরা এখন আর সবজির দামের দিকে তাকিয়ে নেই। বরং তাঁদের ভরসা—সবজির বীজ। গুপিনগরের এক চাষি রণজিৎ দোলুই জানালেন,“বাজারে ৭০টা শসা বিক্রি করলে হাতে কিছুই আসে না। কিন্তু ওই ৭০টা শসা থেকে যখন বীজ আলাদা করি, তখন প্রায় এক কেজি দানা হয়। তার দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।”
সবজি বিক্রি করে যে আয় হত না, ফসলের ভেতরের দানা দিয়েই এখন সেই রোজগারের রাস্তা খুলে গেছে। রণজিৎবাবু তাই তিন বিঘা জমিতে শুধু বীজ উৎপাদনের জন্যই চাষ করছেন। গুপিনগরীতে শুরু হলেও এই সাফল্য এখন ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের গ্রামে। সুন্দরপুর, বাউড়িয়া, আমতলা, চকসুমরু—সবজির বীজ চাষে ঝুঁকেছেন এখানকার কৃষকরা। ফল পাকলেই দানা সংগ্রহ করা যায়, আলাদা খরচও নেই। আর চাহিদা? শ্যামপুরের সীমা ছাড়িয়ে সেই বীজ পৌঁছে যাচ্ছে মেদিনীপুর, ঘাটাল, বারাসত, এমনকি কেরল ও উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত।
শসা, ঝিঙে, করোলা, কড়াই—বিভিন্ন সবজির বীজই এখন শ্যামপুরের কৃষকদের কাছে সোনার খনি। গুপিনগরীর কৃষকরা শুধু নিজেদের জীবিকা বদলাচ্ছেন না, তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্য চাষিদেরও অনুপ্রাণিত করছে।