সোমবার সকালে অনামিকার বাবা-মা পৌঁছেছিলেন লালবাজারে। সেখানে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁরা যান যাদবপুর থানায়। অভিযোগ জানান, তাঁদের মেয়েকে ‘ইচ্ছাকৃত’ভাবে কেউ জলে ফেলে দিয়েছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত। পরিবারের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে অবশেষে খুনের মামলা রুজু করল যাদবপুর থানার পুলিশ (Police)। মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে (Jadavpur student death) এবার নামল লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।
সোমবার সকালে অনামিকার বাবা-মা পৌঁছেছিলেন লালবাজারে। সেখানে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁরা যান যাদবপুর থানায়। অভিযোগ জানান, তাঁদের মেয়েকে ‘ইচ্ছাকৃত’ভাবে কেউ জলে ফেলে দিয়েছে। তদন্তকারীদেরও ধারণা, ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনের ঝিল থেকে উদ্ধার হয় প্রথম বর্ষের এই ছাত্রীর নিথর দেহ। প্রাথমিকভাবে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসাবে মামলা নেওয়া হলেও, পরিবারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। অনামিকার বাবার কথায়, “মেয়েকে কেউ কোনও প্রস্তাব দিয়েছিল। ও রাজি না হওয়াতেই ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ও ওই অন্ধকারে একা যেতে পারে না।”
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে, মৃত্যুর কারণ জলেই ডুবে যাওয়া। তবে কীভাবে তিনি ঝিলে পড়লেন, সেটাই স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, ঝিলের পাশের এলাকা যথেষ্ট অন্ধকার, দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া ‘অসম্ভব নয়’, তবে কোনও ব্যক্তি সেখানে অনামিকাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে কিছু করেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ছাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা জানতে পাঠানো হয়েছে ভিসেরা রিপোর্ট। রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সহপাঠী এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে ইতিমধ্যেই একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে, যাদবপুরের ছাত্রীমৃত্যু ঘিরে ফের একবার প্রশ্নের মুখে ক্যাম্পাস সুরক্ষা ও রাতের হোস্টেল পরিবেশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে এখন গোটা রাজ্য।