তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাহলে ওই নাবালিকাকে কে খুন করল? হাইকোর্টের রায় এই প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে নতুন করে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তন্ত্রসাধনার নামে নরবলি, ধর্ষণ, খুন—তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানো সেই মামলায় শেষমেশ বেকসুর খালাস পেলেন ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত দুই মহিলা (Sentenced to death for human sacrifice in Tantra practice, finally acquitted)। সাত বছর আগে হুগলির খানাকুল কেঁপে উঠেছিল এক নাবালিকার পচাগলা দেহ উদ্ধারে। সেই ঘটনায় প্রথমে গ্রেফতার হন তান্ত্রিক মুরারি পণ্ডিত, তাঁর স্ত্রী সাগরিকা পণ্ডিত এবং নাবালিকার দিদিমা। মূল অভিযুক্ত মুরারির বিচার চলার আগেই মৃত্যু হয়। বাকি দু’জনের মধ্যে আরামবাগের নিম্ন আদালত সাগরিকাকে ফাঁসি এবং দিদিমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস—তাদের দু’জনকেই বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছে। রায় অনুযায়ী, প্রমাণের অভাব, তদন্তে গাফিলতি এবং যুক্তির অসঙ্গতিতে এই সাজা টিকল না উচ্চ আদালতে।
সাগরিকার আইনজীবী নীলাদ্রিশেখর ঘোষ আদালতে বলেন, “একজন মহিলা হিসেবে ধর্ষণের অভিযোগ সাগরিকার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক।”
তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ যে চটি উদ্ধার করেছে, তা যে মৃত নাবালিকারই, তা নিশ্চিত নয়। তল্লাশি চালানো হয় অনেক পরে, এবং দেহও উদ্ধার হয় প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে, অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে নয়। এমনকি পুলিশ তদন্তের নানা গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাগরিকার আইনজীবী।
এই যুক্তিগুলি আমলে নিয়ে আদালত রায় দেয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ নেই। সেই কারণেই তাদের খালাস করা হল।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাহলে ওই নাবালিকাকে কে খুন করল? হাইকোর্টের রায় এই প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে নতুন করে।আইনজীবীরা বলছেন, পুনরায় তদন্তের দাবি জানাতে পারেন মৃত শিশুর পরিবার। আইনি পথ এখনও বন্ধ হয়নি। রহস্য রয়ে গেল, কিন্তু বিচার শেষ নয়।