দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ পাকিস্তান জিন্দাবাদ বললেই গুলি করে মারা হোক তাঁকে! এমনই নিদান দিলেন কর্নাটকের কৃষিমন্ত্রী বিসি পাটিল। কেন্দ্রের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নেরও অনুরোধ রাখেন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দিন কয়েক আগেই দিল্লির প্রকাশ্য জনসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলেছিলেন, 'দেশকি গদ্দারোঁকো, গোলি মারো সালেকো'। বিজেপির আর এক মন্ত্রীও এবার একই সুরে গলা চড়ালেন।
দিন দুয়েক আগেই বেঙ্গালুরুতে সিএএ-বিরোধী একটি জনসভায়, আইমিম-এর মঞ্চে আসাউদ্দিন ওয়াইসির সামনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেন অমূল্য লিওনা নামের এক তরুণী। এর পরে তাঁকে গ্রেফতার করে দেশদ্রোহের মামলাও রুজু হয়েছে। সেই বিতর্কের রেশ ধরেই গুলি করে খুন করার দাবি জানালেন বিসি পাটিল।
রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "যারা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে বা পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দেয়, তাদের দেখলেই গুলি চালানোর আইন চালু করতে হবে। অনেক দিন ধরেই দেশে এই আইন চালুর প্রয়োজন রয়েছে। এই ধরনের মানুষগুলি এখানকার পরিবেশে বড় হবে। এই দেশের জল ও খাবার খাবে। তারপরও পাকিস্তান জিন্দাবাদের স্লোগান দেবে। তাহলে ওদের এদেশে থাকার কী দরকার? চিনের দিকে তাকিয়ে দেখুন সেখানকার মানুষরা দেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। তাই আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দেশদ্রোহীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কড়া আইন চালু করার অনুরোধ জানাই।"
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে “সংবিধানকে রক্ষা করুন” এই ব্যানারে আয়োজিত হয় একটি অনুষ্ঠান। সে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওয় দেখা যায়, বক্তৃতা চলার মাঝেই আচমকা মঞ্চে উঠে পড়লেন এক তরুণী। কথা বলতে বলতে ওই তরুণী স্লোগান দিয়ে ওঠেন “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”। উপস্থিত জনতাকেও গলা মেলানোর অনুরোধ জানান তিনি।
তরুণীর মুখে আচমকা ওই স্লোগান শুনে ছুটে আসেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি নিজে এবং তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন। তরুণীর মুখের সামনে থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। তরুণীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেন ওয়াইসি ও তাঁর সহ-নেতারা। কিন্তু দমে না গিয়ে ক্রমাগত ওই স্লোগান দিতে থাকেন অমূল্য। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এর পরে তরুণীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে ওয়াইসি বলেন, “আমরা কোনও ভাবেই পাকিস্তানকে সমর্থন করি না। পাকিস্তান আমাদের শত্রু দেশ।” তরুণীকে গ্রেফতার করা হয় এর পরে। খারিজ হয়ে যায় তাঁর জামিনের আবেদনও। তিন দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।
অভিযুক্ত তরুণীর বাবাও মেয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “অমূল্য ভুল বলেছে। ও কিছুদিন ধরেই মুসলিমদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করছিল, এটা হয়তো তারই ফল।” অন্যদিকে ওয়াইসি দাবি করেছেন, এই দেশবিরোধী স্লোগানের সঙ্গে তাঁর ও দলের কোনও যোগ নেই। “আমি বা আমার দল ওই স্লোগানে বিশ্বাসী নই। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই ভারত জিন্দাবাদ স্লোগান দেব। আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই আর তা থাকবেও না।”– বলেন তিনি।
তবে আসাউদ্দিন ওয়াইসি অবস্থান পরিষ্কার করতে যাই বলুন না কেন, এ ঘটনাকে ইতিমধ্যেই আক্রমণের হাতিয়ার করেছে বিজেপি। কর্নাটকের রাজ্য বিজেপি সভাপতি নলীন কাটিল বলেন, “সিএএ বিরোধী মঞ্চে পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়ে দেশবিরোধী কাজ করেছেন ওই পড়ুয়া।” রাজ্য বিজেপির তরফে টুইট করা হয়, “সত্য প্রকাশ পেয়েছে। সিএএ বিরোধী আন্দোলন হল পাকিস্তান ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন দেশবিরোধী শক্তিগুলোর যৌথ উদ্যোগ। যারা পাকিস্তানকে সমর্থন করেন তারা সেখানেই চলে যান।”
এই ঘটনার তিন দিন কাটতেই মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী। এবার আর পাকিস্তান পাঠানো নয়, সরাসরি গুলি করার নিদান তাঁর।