একটা সময় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন শোভন। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ সামলেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। পরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক টানাপড়েনে দল ছেড়ে নাম লেখান বিজেপিতে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্য়ায়।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পর এবার মুখ্যমন্ত্রী থুড়ি দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে একান্তে কথা হল কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের (Sovan Chatterjee)।
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে রয়েছেন শোভন-বৈশাখী। এদিকে বিপর্যয় সামলাতে পাহাড়ে রয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানও। সেই সূত্রে, অনেকদিন পর দিদির কাছাকাছি এলেন শোভন। জানা যাচ্ছে বুধবার, প্রায় ২ ঘণ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁর আদরের কানন। তবে কী কথা হয়েছে, তা কোনওপক্ষই এখনও খোলসা করেননি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দুর্গাপুজোর চতুর্থীর দুপুরে আচমকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Baisakhi Banerjee) ছিলেন। সেবারে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। বৈঠক শেষে বেরানোর সময় শোভনের মুখে দেখা গিয়েছিল একরাশ তৃপ্তির ছায়া। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, “আগের অভিষেকের চেয়ে এই অভিষেক অনেক পরিণত। ওর সঙ্গে কথা বলে আমি সমৃদ্ধ হলাম।"
তৃণমূলে কবে ফিরছেন? চতুর্থীর দুপুরে শোভনের আগেই জবাব দিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গিনী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্য ওয়ালকে বলেছিলেন, "শোভনের দলে ফেরাটা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা!" সঙ্গে এও বলেছিলেন, "মমতাদির (Mamata Banerjee) সঙ্গে শোভনের ভালবাসার সম্পর্কটা কাছ থেকে বেশ কয়েকবার দেখার সুযোগ হয়েছে, আজ দেখলাম শোভন-অভিষেকের পরস্পরের প্রতি আবেগও।"
শিলিগুড়ির বৈঠক নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শোভন। এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বৈশাখীও। বৈঠকের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর, শোভনের তৃণমূলে ফেরা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
জানা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের পরই শোভনের তৃণমূলে ফেরা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে দলনেত্রীর চূড়ান্ত সম্মতির দরকার ছিল। পাহাড়ে শোভনের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল বলেই মনে করা হচ্ছে।
একটা সময় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন শোভন। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ সামলেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। পরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক টানাপড়েনে দল ছেড়ে নাম লেখান বিজেপিতে। সেখানেও স্থায়ী হয়নি তাঁর যাত্রা। ধীরে ধীরে সরেও যান সক্রিয় রাজনীতি থেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে শোভন এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করার পর শোভন বলেছিলেন, “আমি আবার কাজ করতে চাই। রাজনীতিতে ফিরতে চাই। এবং সেটা তৃণমূলে থেকেই। কারণ, তৃণমূল আমার কাছে শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারও, রক্তের সম্পর্ক।"
অগত্যা, বুধবার দুপুরের পর থেকে পাহাড়ের বাতাসে গুঞ্জন, শোভনের ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।