তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা যেন কপি-পেস্ট সন্দেশখালির প্রাক্তন নেতা শেখ শাহজাহানের ঘটনার খতিয়ান!

শেখ ফিরোজ ও শেখ শাহজাহান।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির রেশ এ বার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে?
দলবদল ঘটেনি, বদলায়নি দাপটের ধরণ—অন্তত তেমনটাই অভিযোগ তুলেছেন জামালপুরের চক্ষণজাদি-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা যেন কপি-পেস্ট সন্দেশখালির প্রাক্তন নেতা শেখ শাহজাহানের ঘটনার খতিয়ান!
জমি দখল, মসজিদের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম, তহবিল নয়ছয়, এমনকি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সম্পত্তি দখলের মতো সংবেদনশীল অভিযোগও উঠেছে ফিরোজের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এলাকায় ‘তালিবানি’ কায়দায় শাসন চালানোর অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রামবাসী। ভয়, আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে চান না প্রকাশ্যে।
কে এই ফিরোজ?
দলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের কোনও বড় পদে নেই ফিরোজ। তবে স্ত্রী হাসনারা বেগম ২০১৮ থেকে বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। কিন্তু স্থানীয়দের কথায়, প্রকৃত ‘চালকের আসনে’ ফিরোজই। “স্ত্রী নামেই প্রধান, আসল শক্তি ফিরোজ,” বলছেন এক গ্রামবাসী।
চককৃষ্ণপুর, জামুদহ, শম্ভুপুর—তালিকা লম্বা। অভিযোগ, একতলা মসজিদের জমি দখল করে জিম সেন্টার! মসজিদ কমিটির কার্যক্রমও ফিরোজের মুঠোয়। তহবিলেও অনিয়মের অভিযোগ। ক্যানসার আক্রান্ত শাহ আলম মল্লিক ও তাঁর ভাইদের জমি দখলের অভিযোগে উত্তাল হয়েছে চহণজাদি গ্রাম।
সব অভিযোগ উড়িয়ে ফিরোজের অবশ্য দাবি, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার চলছে। শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানির ইন্ধনে এইসব হচ্ছে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছি, তাই বদলা নেওয়া হচ্ছে।”
পাল্টা কটাক্ষ করেই থেমে থাকেননি অঞ্চল সভাপতি দানি, তাঁর জবাব: “চোরের মায়ের বড় গলা!” দলের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান জানান, “আমি নিজেই বলেছিলাম থানায় যাওয়ার জন্য।” জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাফ বার্তা, “খোঁজ নিচ্ছি, সত্যি হলে ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে বিরোধীরা ছাড়েনি সুযোগ। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের তির্যক মন্তব্য, “সন্দেশখালির পর জামালপুর—ঘর বদলালেও চরিত্র বদলায় না। তৃণমূলের মদতেই ফিরোজের মতো লোকজন সন্ত্রাস চালাচ্ছে।”
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আদৌ কি পুলিশের ভূমিকায় কোনও বদল আসবে? নাকি রাজনীতির ছায়াতেই চলবে ‘নিস্পত্তি’?