আগামী ২২ ডিসেম্বর দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, নিয়ম মেনে আয়োজন করলে আদালত আপত্তি জানাবে না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 November 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ব্রহ্মডাঙা’ শান্তিনিকেতনে (Shantiniketan) দুর্গোৎসব নেই, এখানকার প্রধান উৎসবই পৌষমেলা (Poush Mela)।
তাই সারা বছর জুড়ে অপেক্ষা থাকে এই ঐতিহ্যের। প্রাক্তনী থেকে ভিনরাজ্যের পর্যটক—সবার পুনর্মিলনের মঞ্চ হয়ে ওঠে এই উৎসব। গত বছরের মতো এবছরও পূর্বপল্লির মাঠেই বিশ্বভারতী এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের যৌথ আয়োজনে হতে চলেছে পৌষমেলা—এমনটাই খবর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে।
তবে মেলার উপর শেষ কথা বলবে জাতীয় পরিবেশ আদালত। আগামী ২২ ডিসেম্বর দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, নিয়ম মেনে আয়োজন করলে আদালত আপত্তি জানাবে না।
বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “মেলা করতে আমাদের শতভাগ সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু অনুমতির সিদ্ধান্ত পরিবেশ আদালতের হাতেই। তাদের সব গাইডলাইন মেনেই পরিবেশবান্ধব মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।”
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের নেতৃত্বে বৈঠকে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট মিলিতভাবে মেলা করার সিদ্ধান্তে একমত হন। ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার জানান, “আদালতের শর্ত মেনে ছ’দিনের মেলাই হবে। বর্ধিত কোনও সুযোগ নেই। ছ’দিন শেষে দরজা বন্ধ হবে, দু’দিনের মধ্যেই মাঠ পুরো পরিষ্কার।”
২০১৯ সালের মেলার পর প্রায় পাঁচ বছর মাঠে আয়োজন বন্ধ ছিল। ২০২০ সালে মহামারী, আর ২০২১-২২ সালে বিশ্বভারতীর সিদ্ধান্তে মেলা হয়নি। গতবছর যদিও মেলা হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার ঘোষণা হওয়ায় ভিনরাজ্যের স্টল ছিল কম।
এবার তাই প্রত্যাশা বেড়েছে—পুরনো উন্মাদনা, পুরনো রং, আর শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যের সেই সোনালি ছোঁয়া। পরিবেশ আদালতের সবুজ সংকেত পেলেই শুরু প্রস্তুতির শেষ ধাপ। পৌষমেলা শুরু ২৩ ডিসেম্বর, ৭ পৌষে। শান্তিনিকেতন তাই অপেক্ষায়—পৌষের রোদে ফের ভিড়ে ভরে উঠবে কি পূর্বপল্লির মাঠ?