দ্য ওয়াল ব্যুরো : হিজাব (Hijab) বিতর্কে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কর্নাটক (Karnataka)। একদল ছাত্রী হিজাব পরে কলেজে ক্লাস করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পাল্টা গেরুয়া শাল পরে কলেজে ক্লাস করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন একদল ছাত্র। সোমবার বিজয়পুরা (Vijaypura) জেলায় শ্রী শান্তেশ্বর প্রি ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ডিগ্রি কলেজে একদল ছাত্র গেরুয়া শাল পরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এরপরে কলেজ কর্তৃপক্ষ সব ক্লাস বন্ধ করে দেয়।
গত ডিসেম্বরে উদিপীর কুন্দপুর পি ইউ কলেজের অধ্যক্ষ রুদ্র গৌড়া সার্কুলার দিয়ে বলেন, ছাত্রীরা হিজাব পরে ক্লাস করতে পারবেন না। এরপরেই শুরু হয় বিতর্ক। রুদ্র গৌড়া বলেন, ছাত্রীরা হিজাব পরে কলেজ চত্বরে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু ক্লাস করতে পারবেন না। কংগ্রেস নেতারা মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরার অধিকারকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে বিজেপি বলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘তালিবানিকরণ’ করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, হিজাব নিয়ে বিতর্ক তুলে ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। বিজেপির কর্নাটক শাখা বলে, রাহুল শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ করতে চাইছেন।
হিজাব বিতর্ক কর্নাটকের উদিপী জেলা থেকে শুরু হলেও ক্রমশ তা বিজয়পুরা জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রী শান্তেশ্বর কলেজের অধ্যাপক এস বি যাদব বলেন, “আমাদের কলেজের কয়েকজন ছাত্র গেরুয়া শাল পরে ক্লাস করতে চেয়েছিল। কয়েকজন তাদের বন্ধুদেরও গেরুয়া শাল পরার জন্য জোর করছিল। কলেজ চত্বরে অশান্তির আশঙ্কায় সব ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
পরে যাদব বলেন, “আমরা পুলিশকেও সব জানিয়েছি। সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আগামী দিনে কীভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়, তা নিয়ে কথা হবে।”
একটি সূত্রে খবর, এদিন ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের ৪৫ জন এবং ডিগ্রি ক্লাসের ৩০ জন ছাত্র গেরুয়া শাল পরে কলেজে আসে। এর পিছনে একটি হিন্দু সংগঠন আছে বলে জানা যায়।