শান্তনুর বক্তব্য, “ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক যেভাবে প্রচুর পুলিশ ফোর্স (Police Force) নিয়ে আসে, সেটা শক্তি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়।"

অভিষেককে হুঁশিয়ারি শান্তনুর
শেষ আপডেট: 31 December 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঠাকুরবাড়ি সফর ঘিরে তপ্ত রাজনীতি। আগামী ৯ তারিখ মতুয়াগড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তৃণমূল সাংসদের, তার আগে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ফোর্স নিয়ে এলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) পুজো দিতে দেবেন না।
শান্তনুর বক্তব্য, “ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক যেভাবে প্রচুর পুলিশ ফোর্স (Police Force) নিয়ে আসে, সেটা শক্তি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়। এইভাবে এলে আমি পুজো করতে দেব না। হাজার হাজার মতুয়া জমায়েত হবে, ধিক্কার মিছিল চলবে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "ভোটের আগেই কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঠাকুরবাড়িতে আসতে হয়? তিনি যখন আসেন এক হাজার পুলিশ নিয়ে আসা যাবে না। এখানে আসতে হলে ভক্তসুলভ মন নিয়ে আসতে হবে, পুজো দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। এখানে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য, বাড়ির সদস্যদের নিয়ে কোনও কথা আমরা শুনব না।"
তিনি আরও জানান, "আমরা ঠাকুরবাড়িতে জমায়েত রাখব। অভিষেক ঢুকলে তাঁর উদ্দেশ্য কী, সেটা দেখব। তারপরই যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হবে, তাই করব।"
একইসঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃত করার অভিযোগ শান্তনু ঠাকুরের। তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।
২০২৩ সালে ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসময় মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে ঢোকার আগে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয়। মূল মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কালো পতাকা দেখিয়ে দেওয়া হয় 'চোর চোর' স্লোগান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা ব্যবস্থার খতিয়ে দেখতে পুলিশ গেলে তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়।
মূল মন্দির বন্ধ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি অভিষেক। পুজো দিয়েছিলেন পাশের মন্দিরে। তাঁর চলে যাওয়ার পর গোবর-জল দিয়ে ঠাকুরবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকা শোধন করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
সেই ঘটনায় অভিষেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, 'মন্দির কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ধর্মকে সামনে রেখে রাজনীতি করছেন শান্তনু ঠাকুর, মানুষ এর জবাব দেবে।" এই ঘটনার আড়াই বছরের মাথায় ফের অভিষেকের ঠাকুরবাড়ি সফর ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।