খগেন পর্বের পর দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শমীক। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “একটা সময়ে অর্থাৎ ২০১১ সালের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা সবাই শুনত, কিন্তু এখন আর তাঁর কথা কেউ গুরুত্ব দেয় না।”

শমীক ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 10 October 2025 21:10
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দিলীপ ঘোষের বা রাহুল সিনহার সমালোচনার কথা মনে পড়ে? দুজনেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন। মমতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণে তাঁদের শব্দচয়ন নিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়েছে। প্রায় একই পথগামী শুভেন্দু অধিকারীও। তবে ছাব্বিশের ভোটের আগে নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যেন কৌশলগত ভাবেই ভিন্নতর। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলেও তাঁর কথায় শুভেন্দুর মতো তিক্ততা নেই। বরং তা যেন চর্যাপদের কবিতার মতো। হেঁয়ালি আর ধাঁধায় ভরা।
শুধু কথায় নয়, রাজনৈতিক ধারাতেও যেন ভিন্নতা দেখাতে চাইছেন শমীক। অতীতে দিলীপ ঘোষরা পাল্টা মারের কথা বললেও, শমীক যেন সে পথের পথিকই নন। তাঁর সাফ কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, বিজেপি তা পারেনি। বিজেপি তা করতেও চায় না। মারধরের রাজনীতি বিজেপি করবে না।
খগেন পর্বের পর দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শমীক। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “একটা সময়ে অর্থাৎ ২০১১ সালের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা সবাই শুনত, কিন্তু এখন আর তাঁর কথা কেউ গুরুত্ব দেয় না।”
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন এরকম মনে হচ্ছে?
জবাবে শমীক বলেন, “উনি কী বলেন সেটা কি মানুষ আর গ্রহণ করে? আগে বিশ্বাস করত। উনি মানুষের চোখে হয়ে উঠেছিলেন স্বপ্নের মেঘবালিকা, আর এখন ঠাকুমার ঝুলি।"
আরও ব্যাখ্যা করে শমীক বলেন, “বাম জমানায় উনি যেভাবে নিঃস্বার্থ আন্দোলন করেছিলেন, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তা অস্বীকারের জায়গা নেই। মমতা ছিলেন পরিবর্তনের কারিগর। তাও কেউ অস্বীকার করছে না। সেই সময়ে পরিবর্তনের দরকার ছিল। মানুষ বাম শাসনে হতাশ হয়ে মুক্তির পথ খুঁজছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সময়কার যা রাজনৈতিক অবস্থান আমরাও তাঁকে সমর্থন করেছি।"
শমীকের কথায়, “তখন রাজ্য রাজনীতির একটা নির্দিষ্ট বাইনারি ছিল—সিপিএম বনাম কংগ্রেস। মমতা সেটাকে ভেঙেছিলেন এবং সেটাকে সিপিএম বনাম তৃণমূল করতে পেরেছিলেন।" এ ব্যাপারে অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর সাহচর্যও যে মমতা পেয়েছিলেন, তাও অবশ্য স্মরণ করিয়ে দিতে চান বিজেপি সভাপতি।
তবে একই সঙ্গে শমীক কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধী নেত্রী হিসাবে মমতার রাজনীতির ঘরানার সঙ্গে বিজেপির কোন মিল নেই। তাঁর কথায়, “অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে, মমতা দেবী যেমন ধরুন কোন পুলিশের মুখে কালি লাগিয়ে দিলেন, একটা বিরাট খবর হল, বিতর্ক তৈরি হল, সেটা আমরা করে উঠতে পারিনি। এখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষিতটাও তেমন নেই, আর বিজেপি তেমন করবেও না।" শমীক বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা মোডাস অপারেন্ডি বা স্টাইল অফ ফাংশনিং, তার সঙ্গে বিজেপির কোন মিল নেই। ফলে আমরা আমাদের মতো করে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।"
দশমীর রাত থেকেই উত্তরবঙ্গ বানভাসি। তার পর দুর্গত এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে গুরুতর আহত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। চোট লাগে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষেরও। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। মমতার দাবি ছিল, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এই ঘটনা।
এ প্রসঙ্গেই শমীক এদিন বলেন, “ওঁর কথা মানুষ আর বিশ্বাস করছেন না। যেটা তাঁরা দেখছেন সেটাই বিশ্বাস করছেন। ঠাকুরমার ঝুলি অচিরেই রূপকথার গল্প হয়ে যাবে।”
শমীক ভট্টাচার্যের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি দেখুন—