রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে বারবার। সাম্প্রতিক সময়ে ফারাক্কা ও চাকুলিয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

জ্ঞানেশ কুমার, শমীক ভট্টাচার্য এবং সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 16 January 2026 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর ইস্যুকে (West Bengal SIR) কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস ধরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও রাস্তা অবরোধ - রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে বারবার। সাম্প্রতিক সময়ে ফারাক্কা ও চাকুলিয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার (ECI) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) - দু’জনকেই সরাসরি বার্তা দিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি বা রাজভবনে বসে রিপোর্ট পড়ে বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।
জ্ঞানেশ কুমার - সিভি আনন্দ বোসকে বার্তা
জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে (ECI) উদ্দেশ করে শমীকের সাফ কথা, “দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না। বাংলায় আসুন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। মানুষ কী বলছে, কী চাইছে - তা নিজের চোখে দেখুন।” একই সুরে রাজ্যপালকেও (Governor) বার্তা দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, “শুধু রাজভবনে বসে থাকলে চলবে না। আমি জানি রাজ্যপাল হয়তো অসুস্থ, কিন্তু তবুও তাঁকে বাইরে বেরোতে হবে। গোয়ালপোখর যেতে হবে, মুর্শিদাবাদ যেতে হবে, চায়ের দোকানে বসে জানতে হবে সাধারণ মানুষ কী বলছে।”
সাম্প্রতিক হানাহানি ও অশান্তির ঘটনাকে সামনে রেখে শমীকের অভিযোগ আরও তীব্র। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যদি কেউ দাঙ্গামূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তাহলে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বা নেতা।
ভারতবিরোধীদের ক্যাম্প
মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) প্রসঙ্গে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, সেখানে ক্যাম্প করে ভারতবিরোধী কার্যকলাপে যুক্তদের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বামফ্রন্টকেও নিশানা করেন তিনি। শমীকের কটাক্ষ, “বাম আমলে ছিল সেফ প্যাসেজ, আর তৃণমূলের আমলে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে গিয়েছে সেফ হোম।”
প্রসঙ্গ আইপ্যাক
আইপ্যাক (I-PAC) প্রসঙ্গেও এদিন তৃণমূল সরকারকে বিঁধেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক অফিসে হানা ও ইডি তদন্তকারী অফিসারদের (I-PAC ED Raid) কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনতাই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, তৃণমূল চেয়ারম্যান হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গে শমীকের প্রশ্ন, “ডিজি গিয়েছিলেন - তা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সেখানে কেন গিয়েছিলেন?” ডিজি রাজীব কুমারের প্রসঙ্গ টেনে শমীক মনে করিয়ে দেন, ২০১৯ সালে তাঁকে ঘিরেই মুখ্যমন্ত্রী পথে নেমেছিলেন। সারদা তদন্তের সময়েও একই ছবি দেখা গিয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত
এসআইআর প্রসঙ্গ তাঁর স্পষ্ট মত, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য - ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণে কমিশনকে সহযোগিতা করা, বিএলএ-২ রা আক্রান্ত হলে সেটা আমরা রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করব। কিন্তু বিএলও-দের আক্রান্ত হওয়া এবং পদত্যাগের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কী করছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। বিজেপি নেতার স্পষ্ট কথা, যদি কমিশন অপারগ হয়, যদি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়, তাহলে তার দায় রাজ্যপালকে নিতে হবে, রাষ্ট্রপতিকে নিতে হবে।
তাহলে শমীক ভট্টাচার্য কি ঘুরিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন?