মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যুবভারতী কাণ্ডে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির।

শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 17 December 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বছরের জুন মাসে আবার পুলিশের বড় বৈঠক হবে, সেখানে বর্তমান বিরোধী দলনেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখবেন। ইডেনের একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুলিশের বৈঠকের প্রেক্ষিতে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শনিবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তীব্র বিশৃঙ্খলার পর পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে—এই প্রশ্ন উঠতেই শমীকের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপির দাবি, ২০২৬-এ তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত। সেই আবহেই বিরোধী দলনেতাকে পাশে বসিয়ে শমীকের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা বাড়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন—তা হলে কি ২০২৬-এর মুখ শুভেন্দু অধিকারী? জবাবে কৌশলী শমীক বলেন, “বিজেপি মুখ-মুখোশের রাজনীতি করে না। যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন। উনি তো পুলিশের সঙ্গে লড়াই করেন, সেই অর্থে কথাটা সিম্বলিক।”
এর পরেই যুবভারতী কাণ্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শমীক। তাঁর অভিযোগ, মেসিকে সামনে রেখে চূড়ান্ত দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। মোহনবাগান কর্তৃপক্ষের প্রতিও আবেদন জানান তিনি—এই চক্করে না জড়াতে। তাঁর কথায়, এতে সমর্থকদের আবেগ ধ্বংস হচ্ছে।
একই সুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, “আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। আর ঢাকতে পারবেন না।” শুভেন্দুর প্রশ্ন, মেসির জন্য অগ্রিম ২৫ কোটি টাকা কাকে দেওয়া হয়েছে? তাঁর দাবি, শুধু ক্রীড়ামন্ত্রী নন—গোটা তৃণমূলই এই লুটের সঙ্গে যুক্ত। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা ‘ছোট মাছ’; প্রাতিষ্ঠানিক লুটের সঙ্গে যুক্তরা এখনও জেলের বাইরে।
মেসি-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। আগামিকাল শুনানি। সবশেষে শমীকের তীব্র কটাক্ষ—“দুর্নীতি করতে করতে এ সরকার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আর সরকারই নেই—এ এক জীবন্ত জীবাশ্ম।”